মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিনের হুমকি, হাসিনার ষড়যন্ত্র এবং অনেক রক্তচক্ষু দেখেও বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও দেশের জনগণকে ছেড়ে যাননি উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি, কারাগারে নির্যাতন এবং খাবারে বিষ প্রয়োগ করেও বেগম জিয়াকে বিন্দুমাত্রও টলানো যায়নি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি সর্বদা অবিচল ছিলেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মীরেরখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আমরা বিএনপি পরিবার আয়োজিত চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ সাতটি পরিবার ও পাঁচটি আহত পরিবার এবং অসহায় হাফেজ আবু বকর সায়েমের (১২) চিকিৎসা সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, নিরাপদে হরিলুট করার জন্য, জনগণের টাকা আত্মসাৎ করার জন্য হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে পথের কাঁটা মনে করত। তাই খালেদা জিয়াকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যত ধরনের চক্রান্ত করা যায় তার সবই করেছে হাসিনা। শেখ হাসিনার আমল মানে পদে পদে মৃত্যু, গুম, খুন এবং ক্রসফায়ারে হত্যা। ইলিয়াস আলী, জাকির, সুমনের মতো অনেক ছাত্রনেতা, যুবনেতা পার্লামেন্টারি এমপিদের অনেককে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি, তারা নিরুদ্দেশ।
রিজভী আরও বলেন, হাসিনা দেশটাকে তার পৈতৃক সম্পত্তি মনে করত। জনগণের টাকাকে নিজের টাকা মনে করত। সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক প্রত্যেকটি ব্যাংকের টাকা সে এবং তার লোক বিদেশে পাচার করেছে। ঢাকা শহরে কারও জমি থাকলে সে রাজুকের প্লট নিতে পারে না। সে জায়গায় শেখ হাসিনা কোনো আইন-কানুন না মেনে সুধাসদনে তার বাড়ি থাকার পরও পূর্বাচল থেকে নিজের নামে, ছেলের নামে, মেয়ের নামে আত্মীয়-স্বজনের নামে ষাট কাঠা জায়গা নিয়েছে।
বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের প্রশংসা করে বলেন, মীর হেলাল দলের দুঃসময়ে শত বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে গণতন্ত্র ফেরানোর জন্য অবিরাম গতিতে কাজ করে গেছেন।
প্রবাসীরা যাতে সবাই বিদেশ থেকে পোস্টাল ভোট দিতে পারে তাই রিজভী পাসপোর্টকে ভোটার কার্ড হিসেবে গণ্য করে প্রবাসীদের ভোটদানের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনারের প্রতি দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন, হাফেজ আবু বকর সায়েমের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেন এবং তার প্রতি সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পাশে থাকার বার্তা পৌঁছে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ -এর উপদেষ্টা আবুল কাশেম, সংগঠনটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, রাশেদুজ্জামান পিয়াস প্রমুখ।