ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলি ও গলা কেটে ছাত্রদল নেতা সাদ্দাম হোসেনকে (৩২) হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে।
নিহতের বাবা মো. মস্তু মিয়া সদর মডেল থানায় বাদী হয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখসহ মোট ১২–১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানান, রাত সোয়া ৮টার দিকে তারা এজাহার পেয়েছেন এবং মামলা এফআইআর হয়েছে। এতে দিলীপসহ সাতজনের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি আরও ৫–৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ, ডিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই আসামিদের গ্রেফতার করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এর আগে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কান্দিপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাদ্দাম হোসেনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। গুলিবিদ্ধ ও গলাকাটা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত সাদ্দাম হোসেন (৩৫) সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য। তিনি শহরের কান্দিপাড়ার মাইমলহাটির মোস্তফা কামাল ওরফে মস্তুর ছেলে। তার স্ত্রী এবং সাত ও দুই বছরের দুটি মেয়ে রয়েছে।
এদিকে, হত্যার প্রতিবাদে এবং মামলা দায়েরের দাবিতে বিকেল থেকে থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলে থানা ঘেরাও, স্লোগান এবং বিক্ষোভ মিছিল। মামলা দায়েরের নিশ্চিত খবর পাওয়ার পর রাত ১০টার দিকে নিহত সাদ্দামের লাশ নিয়ে স্বজনরা থানা এলাকা ত্যাগ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ জানায়, সাদ্দামের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং মামলার অগ্রগতির বিষয়ে পরে জানানো হবে।