Image description

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আব্দুল আউয়াল (৫৫) নামে এক সাবেক যুগ্ম জজ। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন শ্মশান এলাকায় ঘটে এ দুর্ঘটনা। আব্দুল আউয়াল ওই ইউনিয়নের মনিরাম গ্রামের সৈয়দ আলী ব্যাপারীর ছেলে। সর্বশেষ গাজীপুরে যুগ্ম দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছিলেন গাইবান্ধা জজ কোর্টে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য, গাইবান্ধা জজ কোর্টে কাজ শেষে এক মুহুরীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন আব্দুল আউয়াল। পথে বামনডাঙ্গা ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ভাতিজা রাশেদুল ইসলামের দাবি, আব্দুল আউয়ালকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একটি শালবন-সংক্রান্ত মামলায় অন্যায় সুবিধা না দেওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকেই বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন তিনি। সম্প্রতি চাকরিতে ফেরার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছিলেন তিনি, এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় করছিলেন যোগাযোগও। একই সঙ্গে আইন পেশাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন গাইবান্ধা জজ কোর্টে।

দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মোটরসাইকেলে থাকা মুহুরী আশাদুলের বক্তব্য পাওয়া যায়। সেখানে তিনি দাবি করেন, গাইবান্ধা থেকে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন আব্দুল আউয়াল। পরে কিছু দূর যাওয়ার পর তিনি নিজে মোটরসাইকেল চালাতে শুরু করেন এবং আব্দুল আউয়াল পেছনে বসেন। সুন্দরগঞ্জের শ্মশান এলাকায় পৌঁছালে রংপুর দিক থেকে আসা একটি ট্রাক পাশ কাটানোর সময় ঘটে দুর্ঘটনা।

ভিডিওতে আশাদুলকে আরও বলতে শোনা যায়, মোটরসাইকেলের গতি তখন কম ছিল। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, বুঝতে পারেননি তিনি। নিজেও পড়ে গিয়ে হাতে আঘাত পান। তার মাথায় হেলমেট ছিল। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি কিছু সময় থামলেও পরে দ্রুত চলে যায়।

এসব ঘটনার পর সাবেক জজের বাড়িতে ফোন দেন তিনি। কিন্তু রিসিভ না হওয়ায় মোবাইল ও বিপুল পরিমাণ টাকাসহ নিহত আউয়ালকে রাস্তায় ফেল রেখে খবর দিতে চলে যান। পরে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ট্রাকটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।