Image description

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে হাজিরা দিতে আসা লিয়াকত আলী সিকদার নামে এক বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। হামলায় তিনি অক্ষত থাকলেও তার সহযোগী মাইনুদ্দীন (৩৭) নামের একজন গুলিবিদ্ধ হন। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আদালতপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার সহযোগীদের নিয়ে একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে আসেন। হাজিরা শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় এক যুবককে মারতে মারতে একটি সাদা গাড়িতে তুলে নিতে দেখেছেন আদালতে আসা প্রত্যক্ষদর্শী। এদিকে আদালত এলাকায় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, পূর্বশত্রুতার জেরে সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলীর ওপর হামলা চালিয়েছে তার প্রতিপক্ষ। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ার (বিসিক এলাকা) নিজ বাড়িতে গিয়ে লিয়াকত আলীকে গুলি ও কুপিয়ে জখম করেছিল দুর্বৃত্তরা। গতকাল সকালে লিয়াকত আলীসহ কয়েকজন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এসেছিলেন একটি মামলার হাজিরা দিতে। হাজিরা শেষে বেলা ১১টার দিকে লিয়াকত বাড়িতে ফেরার গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী সিকদারের ছোট ভাই যায়েদ আলী বলেন, ‘আমার ভাই একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। হাজিরা শেষে ফেরার পথে আদালত কম্পাউন্ডে দুর্বৃত্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ভাইকে টার্গেট করে গুলি চালায়। অল্পের জন্য তিনি বেঁচে গেলেও আমাদের সঙ্গে আসা একজন গুলিবিদ্ধ হয়। হামলাকারী একজনকে অস্ত্রসহ আটক করি, অন্য তিনজন পালিয়ে যায়। আমার ভাইকে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী খালেক, মিজবাহ বাহিনী হত্যা করতে চাচ্ছে।’

ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র্যাব আদালত চত্বর ঘিরে ফেলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান কালবেলাকে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশে তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।