‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে মতিঝিলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কয়েকশ’ মানুষের বিক্ষোভ। তাদের দাবি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ। জামায়াতপন্থি এই ফোরামের দাবি আর বিক্ষোভের মুখে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান গতকাল বিকালে পদত্যাগ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। গত বছরের ২৩শে জুলাই তাকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়। গতকালই ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভা ডাকা হয়েছিল। বিক্ষোভের কারণে এ সভাও হয়নি।
ব্যাংকটিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সকালে মতিঝিলে মানববন্ধন করে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম। সকাল সাড়ে ১০টায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে কয়েকশ’ মানুষ অংশ নেন। তারা ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খানকে পদত্যাগ না করার দাবি জানান। অন্যদিকে চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ চান তারা। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন এম জুবায়দুর রহমান। এদিকে ছুটিতে থাকা এমডি ওমর ফারুক খানও পরিচালনা পর্ষদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে ব্যাংকটির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে পর্ষদের সভাটি বাতিল হওয়ায় এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।
ওমর ফারুক খান গণমাধ্যমকে জানান, অব্যাহত চাপের মুখে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছেন। এটি ব্যাংকের পর্ষদে ওঠার কথা। কিন্তু পর্ষদের সভা না হওয়া এবং চেয়ারম্যান পদত্যাগ করায় আবেদনের বিষয়টি অনুমোদন হয়নি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে কয়েক দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো-ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অপসারণ করা হলে চেয়ারম্যানকেও অপসারণ করতে হবে। দলীয় ও বেআইনি নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। গ্রাহকদের আমানতের অর্থ ফেরত দিতে হবে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে এম জুবায়দুর রহমানকে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
জানা গেছে, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এবং গভর্নর পদে মোস্তাকুর রহমান যোগদানের পর ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতবিরোধ হয়। অনলাইনে সভায় উপস্থিত থাকার শর্তে দেড় মাসের ছুটিতে দেশের বাইরে যান ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান। পাশাপাশি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকেও ছুটিতে পাঠানো হয়। গত ১২ই এপ্রিল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাদের এই ছুটি অনুমোদিত হয়।
জুবাইদুর রহমান ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার থেকে ফিন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কে অধ্যাপক, ইতালির ইউনিভার্সিটি অব বোকোনিতে ভিজিটিং প্রফেসর, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়, আরবানা শ্যাম্পেইন এবং রাশিয়ার মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ঢাকার জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেসের (জুমস) প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর।