Image description

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপপক্ষ বিজয়ের একপক্ষের পুষ্পস্তবক অর্পণ র‌্যালিতে অন্যপক্ষের আক্রমণে রক্তে রাঙাল একুশের প্রথম প্রহর। এতে অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচ জনের অবস্থা গুরুতর। সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের মোড়ে দু‘পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

জানা গেছে, উপপক্ষ বিজয়ের অনুসারীরা 'ব্রাদার্স' ও 'মকু' নামক দুটি ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে 'ব্রাদার্স' পক্ষটি আলাওল হল ও এএফ রহমান হলে এবং অপরপক্ষ 'মকু' সোহরাওয়ার্দী হলে অবস্থান নিয়ে রাত ২টা পর্যন্ত সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, রাত ১২টার পর একুশের প্রথম প্রহরে ব্রাদার্সের নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুপুষ্পস্তবক অর্পণের উদ্দেশে যেতে চাইলে সোহরাওয়ার্দী হলে অবস্থানরত মকুর নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে প্রায় ২০ জন আহত হয়।

চবি মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত কর্মকর্তা দেলোয়ার জানান, আহত ২০ জনের মতো এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। ১১ জনের নাম খাতায় লেখা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। এদের একটা-দুইটা করে সেলাই লেগেছে। এর মধ্যে একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের মধ্যে কেউ হাত, পা, চেহারা, রান ও গোড়ালি ইত্যাদিতে ইট-পাথরের আঘাত পেয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই চিকিৎসা নিয়ে নিয়ে ফিরে গেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মকুর নেতা মোহাম্মদ দেলোয়ার বলেন, গত কয়েক দিন ধরে আলাওল হলে থাকা আমাদের কিছু কর্মীকে তারা বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। রাতে আমরা আলাওল হলের দিকে যেতে চাইলে তারা আমাদের ধাওয়া করে।

অপরদিকে ব্রাদার্সের নেতা ফাহিম বলেন, একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশে পুষ্পস্তবক নিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় ইট-পাটকেলের আঘাতে আমাদের ১০-১২ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়।   

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. শহীদুল ইসলাম বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রলীগের দু‘পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তারা একপক্ষ অপরপক্ষকে দোষারোপ করে এবং আক্রমণ করেছে। পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আমরা সেখানে ভোর ৪টা পর্যন্ত উপস্থিত ছিলাম।