আবু সামিহা সিরাজুল ইসলাম
ইয়ুথ উইং বা যুব বিভাগ!
সম্ভবত ১৯৯২ বা ১৯৯৩ সাল! এখন স্পষ্ট মনে নাই।
প্যান মালয়েশিয়ান ইসলামিক পার্টি (Parti Islam Se-Malaysia) বা PAS-এর কেন্দ্রীয় মু'তামার বা প্রতিনিধি সম্মেলন (দেশের কেন্দ্রীয় রুকন সম্মেলন টাইপ) হচ্ছিল তাদের গোমবাক হেড-কোয়ার্টারে। IIUM তখন ছিল পেতালিং জয়তে। তো, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসাবে ঐ মু'তামারে পাঠানো হল আমাকে এবং মাদ্রাসা ছাত্র আন্দোলন পরিষদের এক সময়ের কেন্দ্রীয় আহবায়ক আবূ সাঈদ মাহফুজ ভাইকে।
পাস প্রতিনিধিদের একটা প্রশ্ন ছিল জামায়াতের সাংগঠনিক স্ট্রাকচার নিয়ে। এর মধ্যে একটা ছিল যুব বিভাগ নিয়ে। আমরা বললাম জামায়াতের কোন ইয়ুথ উইং নাই। তাঁরা খুব আশ্চর্য হলেন । ড. হুসামুদ্দীন ভাই দুষ্টামি করে বললেন, "উইং ছাড়া জামায়াত উড়বে কিভাবে?" আমিও দুষ্টামি করে বলেছিলাম, "জামায়াতের উড়ার কোন দরকার নাই। ওটা জমিনে থাকবে। তবে জামায়াতের মহিলা বিভাগ (উইং আছে ) এবং আছে সেমি-অটোনোমাস ছাত্র উইং (Shibir)। এছাড়াও শ্রমিক এবং কৃষকদের নিয়েও বিভাগ আছে।"
এখন যুব বিভাগ খোলা হয়েছে! ভাল! তবে এই বিভাগে চল্লিশোর্ধ্ব কাউকে রাখা উচিৎ হবে না। যদি রাখতেই হয় তবে ৪৫ পেরোনো একজনও যেন না থাকে। এই বিভাগ চালুতে আমার কোন আপত্তি না থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি এরকম যুববিভাগের আসলে কোন দরকার ছিল না বা নাই। আন্দোলনের যা দরকার তা হচ্ছে এর তাজদীদ।
প্রত্যেকটা আন্দোলনের একটা তাত্ত্বিক ভিত্তি থাকে, জনশক্তির নেতৃপর্যায়ের লোকজন সেই তাত্ত্বিক ভিত্তিকে ভালভাবে হৃদয়ঙ্গম করবে। এটা জরুরী। এরা আন্দোলনের লক্ষ্য-উদেশ্যকে নতুন করে বুঝবে বা এই বুঝের তাজদীদ করবে। ছাত্র-আন্দোলনের মাঝে এই বুঝের সমঝ ভাল করে গাড়বে। আমি মাঝে মাঝে আশচর্য হই মুজিব মঞ্জুসহ ইদানিং এন্সিপিতে যাওয়া ঢাবির সাবেক সভাপতিরা আসলে ইসলামী আন্দোলনের কী বুঝেছিল?
যাই হোক, জ্ঞানের বিপ্লব ঘটানো খুবই জরুরী। বিগত দশক গুলোতে নতুন নতুন জাহিলিয়্যাতের সমাবেশ ঘটেছে মানব সমাজে। এখন দেখা যাবে ইসলামী আন্দোলনকারী ব্যক্তিগণও এসব জাহিলিয়াতে ডুবে আছেন। অথচ শিবিরের ৩য় দফা কর্মসূচি হল জাহিলিয়্যাতের মুকাবিলায় ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী গড়ার কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া। শুধুমাত্র একটা নতুন সাংগঠনিক স্তর আনয়ন করে কোন পরিবর্তন হবে না।
এই পোস্টের শেষ কথা হল নিজের জন্য।
পাসের সে প্রোগ্রামের একটা বিষয় নিয়ে আফসোস করি এখন হঠাৎ হঠাৎ। ড. হুসামুদ্দীন ভাই আমাদেরকে বলেছিলেন, "আপনারা মালয়েশিয়ান সিটিজেন হয়ে যান, আমরা সব ব্যবস্থা করে নেব।" কিন্তু সে সময় আমরা সবেমাত্র দেশ ছেড়ে বিদেশে পড়তে গিয়েছি, অন্তরে বিরাট দেশপ্রেম(!)। পড়াশোনা শেষে দেষে ফিরে যাবো। নিজের দেশ ছেড়ে অন্যকোন দেশের নাগরিক হয়ে যাবো এটা কল্পনাতেও আনতে পারি নি । নিজের দেশ এবং আন্দোলনের প্রতি দায়িত্ব ছেড়ে অন্য কোথাও স্থিতু হবো এমন চিন্তাও অন্তরে স্থান পায় নি। ফলে তাঁকে তাঁর আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বিষয়টার সেখানেই সমাপ্তি টেনে দিলাম। কিন্তু এখন মাঝে মাঝে মনে হয়, "আহা যদি ভাইয়ের সেই প্রস্তাবটা গ্রহণ করতাম!"
অবশ্য দেশে না থাকলেও আমি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাড়া আর কোন দেশের নাগরিক হই নি; এবং এখন তক হবার আকাংখাও করি না।