Image description

সবকিছু ঠিক থাকলে ২৬ ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ১৩তম জাতীয় সংসদ। ওইদিন থেকে শুরু হবে প্রথম অধিবেশন। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, রমজান মাস হওয়ায় প্রাথমিকভাবে ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে অধিবেশন শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ অধিবেশনে সমাধান করতে হবে অনেক ইস্যুর। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদ, উচ্চকক্ষ ইত্যাদি।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ভূমিধস বিজয় লাভ করে। আর সংসদীয় ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেয়ে বিরোধী দলে জায়গা করে নিয়েছে জামায়াত। তাই শুরু হতে যাওয়া নতুন সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা দুজই নতুন। এর বাইরে অনেক নতুন মুখ ও দল সংসদে তাদের ভূমিকা পালন করবে।

অনেক ধরনের ব্যতিক্রম বৈশিষ্ট্য নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে এই সংসদ। তাই দেশের সবার দৃষ্টি এখন রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত লুই আই কানের এই স্থাপত্যর দিকে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ মাস ক্ষমতায় ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এ সময়ের মধ্যে সংসদ অধিবেশন বন্ধ ছিল। সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর নতুন এক রাজনৈতিক সমীকরণে গঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর এখন সবার চোখ সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিকে। পবিত্র রমজান মাসের মধ্যেই শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশন নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশিবিদেশি পর্যবেক্ষকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

সংসদ সচিবালয় নিশ্চিত করেছে যে, সংবিধানের ৭২(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে এই অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৫ বছর পর দলটি সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বসতে যাচ্ছে। এই সংসদে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যারা নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। তারা জানান, সংসদ সদস্যরা সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিলেও, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে শপথ গ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও অসন্তোষ অধিবেশনের আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে। ইতোমধ্যেই নবনিযুক্ত মন্ত্রিসভার সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অপরাধ ও দুর্নীতি দমনে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির এই অধিবেশনটি বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এবারের অধিবেশনের শুরুটাও হবে ব্যতিক্রমী পদ্ধতিতে। সাধারণত আগের সংসদের স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুর হয়। এরপর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদ পরিচালনার জন্য একটি প্যানেল গঠন করা হয়। কিন্তু দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন। ডেপুটি স্পিকার মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন। তাই এ দুজনের কেউই সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু করতে পারছেন না।

এই সমস্যা সমাধানে গত কয়েকদিন সংসদ সচিবালয়ের আইন কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি দেশের ‘নজির’ বিশ্লেষণ করেন। সেসব থেকে তারা একটি আলাদা রুল তৈরি করেছেন। সে অনুযায়ী সংসদ নেতা হিসেবে তারেক রহমান দলের সিনিয়র একজন এমপির নাম প্রস্তাব করবেন স্পিকারের আসনে বসার জন্য। তারপর তিনি ওই আসনে গিয়ে বসবেন। এরপর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নাম প্রস্তাব আহ্বান করে পরে কণ্ঠভোটে তা পাস হবে। এরপরই নতুন তৈরি করা ওই রুল এমপিদের হ্যাঁ, না ভোটে দিয়ে পাস করাতে হবে। এরপরই অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য মুলতবি করা হবে। এ সময়ের মধ্যে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে এসে সংসদ অধিবেশন পরিচালনা শুরু করবেন।

এদিকে এরই মধ্যে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। দলটির কয়েক নেতা প্রথমবারের মতো সংসদে এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। পোস্টে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া লেখেন, আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত ২৯৬ জন সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত শপথ কক্ষে শপথ পাঠ করান। প্রসঙ্গত, সাধারণত সংসদীয় গণতন্ত্রে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ হলো বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে গঠিত একটি বিকল্প কাঠামো, যা ক্ষমতাসীন সরকারের সমান্তরালে কাজ করে। এই ব্যবস্থার মূল কাজ হলো সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা, ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং জনস্বার্থে বিকল্প নীতি প্রস্তাব করা। যদিও ছায়া মন্ত্রিসভার কোনো নির্বাহী ক্ষমতা থাকে না, তবে এটি সরকারকে নিয়মিত জবাবদিহির মধ্যে রাখে এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখে।