Image description
মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই

দেশের মাধ্যমিকে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যবই ছাপাতে সবগুলো মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি শেষ করতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ কারণে আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই পাবেন কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপানোর কাজ শুরু হলেও ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম-তিন শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপাতে এভাবে গড়িমসি করা হলে তার খেসারত দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে আর মাত্র এক মাস বাকি।

জানা গেছে, ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণির ৫৪টি লটে বই ছাপানোসংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। এখনো বাকি ৪৪টি লটের চুক্তি। ৭ম শ্রেণির ২৪টি লটের চুক্তি হলেও আরও ৭৬টি লট বাকি। ৮ম শ্রেণির ১৮টি লটে চুক্তি হলেও বাকি আছে আরও ৮২টি লট।

দরপত্রে শর্ত অনুযায়ী, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এনসিটিবির চুক্তির পর বই ছাপার জন্য ৫০ দিন সময় পায়। এবার ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা ৪ কোটি ৪৩ লাখের বেশি, সপ্তম শ্রেণির ৪ কোটি ১৫ লাখের বেশি ও অষ্টম শ্রেণির মোট বই ৪ কোটি ২ লাখের বেশি। নবম শ্রেণির মোট পাঠ্যবই ৫ কোটির বেশি। নতুন বছর আসার আগে এক মাসে এত বিপুল পরিমাণ বই ছেপে সরবরাহ করা কঠিন হবে।

মুদ্রণসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত এ সময় নতুন শিক্ষাবর্ষের সব বই ছাপানো শেষ হয়ে থাকে। সেখানে বই ছাপানোর চুক্তিই শেষ হয়নি। বছরের শুরুতে মাধ্যমিকের কিছু বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো সম্ভব হলেও সব বই ছাপা শেষ হতে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় লেগে যাবে। এখনো মাধ্যমিকের ১৮ কোটির বেশি বই ছাপানো বাকি রয়েছে।

এনসিটিবির সচিব অধ্যাপক মো. সাহতাব উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আমরা নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের বই দেওয়ার চেষ্টা করছি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বই ছাপানোর সব চুক্তি শেষ হবে। তবে এবার মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অনুযায়ী বই ছাপানোর কাজ দেওয়া হয়েছে। তাই দ্রুত বই ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব। শিক্ষার্থীদের হাতে যথাসময়ে বই পৌঁছানো যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দরপত্রে অনিয়মের কারণে গত সেপ্টেম্বরে মাধ্যমিকের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই ছাপার ক্রয়সংক্রান্ত আদেশ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় বাতিল করা হয়। এই তিন শ্রেণির বই ছাপাতে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে এনসিটিবি। এই তিন শ্রেণির ১২ কোটি বই ছাপানোর জন্য মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করছে এনসিটিবি। চুক্তির পর বই ছাপার জন্য ৫০ দিন সময় পাবে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান। নতুন বছর শুরু হতে না হতেই চলে আসবে জাতীয় নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাস। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান যদি নির্ধারিত সময়ে বই দিতে না পারে, তাহলে একেবারে ঈদের পর শিক্ষার্থীরা বই হাতে পেতে পারে।

এদিকে প্রাথমিক বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। এসব বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোও হচ্ছে। চলতি বছরও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছাতে প্রায় তিন মাস দেরি হয়েছিল। এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষেও একই পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে বলেই সবার ধারণা।

এনসিটিবির উৎপাদন-নিয়ন্ত্রক সূত্র জানায়, আগামী বছর বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রাথমিক স্তরের মোট পাঠ্যবই ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি। এর মধ্যে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত বই বাইন্ডিং সম্পন্ন হয়েছে ৮ কোটি ২৯ লাখ। এর মধ্যে সরবরাহ-পূর্ব পরিদর্শন (পিডিআই) সম্পন্ন হয়েছে ৭ কোটি ৮৯ লাখের বেশি। আর মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে ৭ কোটি ৬৪ লাখ বই।

এনসিটিবি সূত্র আরও জানায়, আগামী শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ২১ কোটির বেশি বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা ৪ কোটি ৪৩ লাখের বেশি, সপ্তম শ্রেণির ৪ কোটি ১৫ লাখের বেশি ও অষ্টম শ্রেণির মোট বই ৪ কোটি ২ লাখের বেশি। নবম শ্রেণির মোট পাঠ্যবই ৫ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার ২৮ কপি।

বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান যুগান্তরকে বলেন, মাধ্যমিকের তিন শ্রেণির বই ছাপানোর চুক্তি শেষ করার পর বই ছাপাতে আরও ৫০ দিন সময় পাবে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে এত বিপুল পরিমাণ বই এক মাসের মধ্যে ছাপানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে নবম-দশম শ্রেণির বইয়ের কাজ চলছে। সেখানে বইয়ের ফর্মা অনেক বড়। ফলে মাধ্যমিকের কিছু বই জানুয়ারির শেষের দিকে সরবরাহ করা গেলে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছতে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় লেগে যাবে।