Image description
চীনা অর্থায়নের অগ্রগতি নেই

মোংলা সমুদ্রবন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের শুরুতেই এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ, এই প্রকল্পে চীনের প্রতিশ্রুত ঋণ অনুমোদনে দেখা দিয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। এ প্রকল্পের জন্য চীনের কাছে দীর্ঘ মেয়াদে কম সুদে ৩৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুত ঋণ পেতে চিঠি দেওয়ার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি নেই। এতে শুরুতেই প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জানা যায়, সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ঋণপ্রস্তাবটি চীনে পাঠায়। কিন্তু এত দিনে কোনো অনুমোদন না আসায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে সরকারের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সংস্থা একনেক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়। এরপর মার্চেই মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিসিইসিসি) মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তির আওতায় ঘোষিত ২৭টি অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ছিল একটি। ২০২১ সালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। পরে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি টেকনিক্যাল প্রস্তাব ও আর্থিক দরপত্র জমা দেয়।

প্রকল্পের আওতায় মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কনটেইনার জেটি নির্মাণ, মোট ৩৬৮ মিটার জেটি লাইন, ৮৭ হাজার ৬০০ বর্গমিটার লোডেড কনটেইনার ইয়ার্ড, ৩৪ হাজার ১৭০ বর্গমিটার এম্পটি ইয়ার্ড ও ৪ হাজার ২৬০ বর্গমিটার ঝুঁকিপূর্ণ মালামাল ব্যবস্থাপনা ইয়ার্ড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় বন্দরের জন্য চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন, সাতটি রাবার-টাইয়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ ৩৩ ধরনের সরঞ্জাম কেনা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর বন্দরটির কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৩ লাখ ৯৪ হাজার টিইইউস পর্যন্ত বাড়বে।

এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব আলিয়া মেহের জানান, চীনা ঋণের প্রক্রিয়া সময় নেয়। এখনো প্রস্তাবটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহিদুল ইসলাম বলেন, চীনা পক্ষের নিজস্ব একনেকে অনুমোদন ছাড়া অর্থ ছাড় হবে না। তাদের পরবর্তী অর্থবছরের বাজেটে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে কবে সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে তা অনিশ্চিত।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) ড. এ কে এম আনিসুর রহমান বলেন, ‘অর্থ ছাড়ের আগ পর্যন্ত জেটি নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব নয়। গত সপ্তাহে চীনা পক্ষ জানিয়েছে যে, প্রস্তাবটি পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া পাইনি। চীনা ঋণের এ অনিশ্চয়তা প্রকল্পের সার্বিক সময়সূচি ও বন্দর উন্নয়ন পরিকল্পনায় ধীরগতি ডেকে আনছে। বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর হিসেবে মোংলাকে কার্যকর করতে আধুনিক সুবিধা জরুরি হলেও অর্থায়ন বিলম্বে কৌশলগত এই প্রকল্পটি এখন অনিশ্চয়তায় ঘেরা।’