বাংলাদেশের অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য ঋণনির্ভর নয়, দেশিবিদেশি বিনিয়োগ জরুরি। শেয়ারবাজার শক্তিশালী করে বিনিয়োগ উৎস বাড়ানো প্রয়োজন। আত্মকর্মসংস্থান এবং দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করা আমাদের অগ্রাধিকার। এসব বিনিয়োগে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন-২০২৫’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ সম্মেলনে দেশের আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ ও গবেষকরা অংশ নেন।
বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ, জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন প্রমুখ। ‘ব্যবসা, বিনিয়োগ ও সামষ্টিক অর্থনীতি, অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ, অর্থনীতিতে ন্যায্যতা ও অভ্যুত্থানের অর্থনৈতিক আকাক্সক্ষা’ এই চার অধিবেশনে তারা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি যতবার সরকারে ছিল কেউ বলতে পারেনি আমরা অর্থনীতি ধ্বংস করেছি। বিগত ১৫ বছর যারা ব্যাংক লুট করেছে, দেশে লুটপাট করেছে, চুরি করেছে, তাদের ধরেন ও শাস্তি দেন। সামগ্রিকভাবে আমরা বাংলাদেশকে সব সময়ই একটা নতুন বাংলাদেশ শুধু নয়, আমরা একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চেয়েছি। ভবিষ্যৎ পথরেখায় শুধু অর্থনীতির এটাতে, শুধু অর্থনীতির পথরেখা হলেই হবে না। সঙ্গে রাজনীতির পথরেখাটাকেও কিন্তু আপনার স্থিতিশীল হতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অর্থনীতিতে যেমন বিভিন্ন সরকারি মারপ্যাঁচ, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য আছে, তেমনি বিভিন্ন খাতে অনেক দুর্বৃত্তপনাও আছে। একজন উদ্যোক্তার ব্যবসা দাঁড় করাতে অনেক জটিলতা পার করতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষে এ দুর্বৃত্তপনাকে রাষ্ট্র বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে। রাজনীতির জায়গা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আমরা কাক্সিক্ষত কমফোর্ট জোন ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি করতে পারিনি।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির আমলে কখনো শেয়ারবাজার ও ব্যাংকে ধস নামেনি। কারণ বিএনপি কখনোই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয় না। অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন ছাড়া দেশের আর্থিক পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি সম্ভব নয়। দেশে এখন যতটুকু বিদেশি বিনিয়োগ তার সূচনা বিএনপির আমলেই হয়েছিল। জনগণের ভোটে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রত্যেকটি মানুষকে অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি সমাজে ফ্যাসিবাদী মনোভাব বজায় থাকে বা আবারও উত্থান হয় তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা শুধু নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতা লাগবে। আমাদের বিগত ১৬ বছর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, অর্থনৈতিক খাতে আমরা রাতারাতি সেটা পরিবর্তন করতে পারব না। সেটা করার চেষ্টাও করা উচিত নয়। আমার কাছে মনে হয় না সেটা এক বছর, দেড় বছর বা ১৮ মাসে সম্ভব। এটার জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা লাগবে।