রাজনীতিতে পা দেয়ার পর থেকে তার ধ্যান-জ্ঞান শুধু দেশের মানুষ আর গণতন্ত্র ঘিরে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি এক আপসহীন চরিত্র। রাজনীতির ঝড়, ঝঞ্ঝায় তিনি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন দেশ এবং মানুষের পক্ষে। এমন আপসহীন-সংগ্রামী ভূমিকার কারণে গৃহবধূ থেকে দেশের সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হওয়া বেগম খালেদা জিয়া এখন স্বাস্থ্যগত সংকটে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি সংকটময় অবস্থায়- দলের পক্ষ থেকে এমন তথ্য প্রকাশের পর তার সুস্থতা কামনায় দোয়া-প্রার্থনায় পুরো দেশ। সব দল মতের মানুষ নানা মাধ্যমে গণতন্ত্রের বাতিঘর বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া-প্রার্থনা করছেন, সহানুভূতি জানাচ্ছেন। খালেদা জিয়ার জন্য সারা দেশে সাধারণ মানুষ ফরিয়াদ জানাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের ফিরে আসার।
খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনূস। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর আরোগ্য কামনায় করা হয় বিশেষ মোনাজাত। অসুস্থ এই নেত্রীকে দেখতে উৎকণ্ঠা নিয়ে হাসপাতালে ছুটে গেছেন সরকারের উপদেষ্টা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। অনেকে অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিজের কিডনি ও ফুসফুস দান করার জন্য ব্যানার নিয়ে হাসপাতালের সামনে দাঁড়ান। অনেকে সুস্থতার আকুতি জানিয়ে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান দিনভর। হাসপাতালের সামনে গণ-দোয়ার আয়োজন করেন উৎসুক জনতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে মানুষজন আকুতি জানাচ্ছেন- সৃষ্টিকর্তার কাছে। বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন স্মৃতি শেয়ার করে তাকে প্রশংসার স্তুতিতে ভাসাচ্ছেন দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। মহান রবের কাছে সবার আকুতি- দ্রুত সেরে উঠুক গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তীতে জাতির অভিভাবক হয়ে ওঠা এই নেত্রী।
হাসপাতালে খালেদা জিয়ার শয্যাপাশে উপদেষ্টা, রাজনৈতিক নেতা
খালেদা জিয়াকে নিয়ে শুক্রবার নয়াপল্টনে দোয়া মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যের পরপরই উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। রাতেই খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হাসপাতালে যান আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। একে একে হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। হাসপাতালে ছুটে যান বিজেপি সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনিও হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমের কাছে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উৎকণ্ঠার কথা জানান। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
শনিবার দুপুরে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে অবহিত হন। সকালে হাসপাতালে যান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাসান জুনাইদ।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে যান নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, আল্লাহ্ যেন হাসিনার ফাঁসি দেখা পর্যন্ত বেগম জিয়াকে বাঁচিয়ে রাখেন। সকালে হাসপাতালে ছুটে যান জামায়াত নেতা ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতায় সবার কাছে দোয়া চান তিনি। বিকালে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর। সন্ধ্যায় হাসপাতালে যান বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ফেসবুক জুড়ে প্রার্থনা
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে নানা মন্তব্য লিখেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনেকে স্বৈরাচার আমলের খালেদা জিয়ার আপসহীন নানা বক্তব্য ফেসবুক শেয়ার করে তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেন, ‘পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে আমরা আন্তরিকভাবে দোয়া করছি, তিনি যেন খালেদা জিয়াকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন, তার সব কষ্ট লাঘব করেন এবং তার জন্য উত্তম ব্যবস্থা নির্ধারণ করে দেন।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়ার আহ্বান জানাই।
মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী ফেসবুকে লিখেন, সেরে উঠুন বাংলাদেশ। একজন অভিভাবক হিসেবে, যার সুস্থতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার দীপ্ত শক্তি, ভাগ্যাহত মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি, গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের মসৃণ যাত্রা। ম্যাডাম জিয়া সুস্থ হোন-হৃৎস্পন্দনে ফিরুক বাংলাদেশ। মহান আল্লাহ তার ওপর অপার করুণা বর্ষণ করুন। আমিন।
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে ইসলামী আলোচক মিজানুর রহমান আজহারী নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেন, নানা বিভক্তি ও বিভাজনের এ দেশে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মানুষের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া এ ক্ষেত্রে অনন্য। দেশপ্রেম ও অতুলনীয় ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি প্রায় সবার কাছে বিশেষ সম্মানের ও শ্রদ্ধার আসন অলংকৃত করেছেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এই মুহূর্তে গোটা জাতি তাকে আন্তরিক দোয়ায় স্মরণ করছে। দলমত নির্বিশেষে অগণন মানুষের এমন দোয়া ও ভালোবাসা পাওয়া সত্যিই পরম সৌভাগ্যের। আমি দেশের তরে সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করা ধর্মীয় মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল এ মহিয়সী নারীর রোগমুক্তি ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি। আল্লাহতায়ালা তাকে দ্রুত আরোগ্য দান করুন।
নিজের ফেসবুকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল লিখেন, ম্যাডাম জিয়ার পরিবার, দল, সরকার ও শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষ থেকে তার রোগমুক্তির জন্য সকলের প্রতি দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশব্যাপী সকল ধর্মমতের মানুষ কায়মনোবাক্যে দেশনেত্রীর জন্য প্রার্থনা করছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে একটি দীর্ঘ মন্তব্য ফেসবুকে শেয়ার করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, মামলার রায় হওয়ার আগে খালেদা জিয়া একবার বিদেশ সফরে গেলেন। হাসিনা আর ওবায়দুল কাদের বলে বেড়াতে লাগলেন, খালেদা জিয়া আর আসবেন না। এতিমের টাকা মেরে খেয়ে পালিয়েছে। খালেদা জিয়া চিকিৎসা করে ফিরে আসলেন। কোর্টে বললেন, আমি এতিমের টাকা চুরি করবো? আমি? কোর্ট জেল দিয়ে দিলো। সারা দুনিয়ার মানুষ জানতো, কেসটা ভুয়া। খালেদা যদি বিদেশ থেকে না আসতেন হাসিনার অন্যায় বিচার এড়ানোর জন্য, আমরা উনাকে দোষ দিতাম না। কেউই দিতো না। কিন্তু খালেদা এসেছিলেন। জেলেও ঢুকেছিলেন। দেশের মানুষকে হাসিনার জেলে রেখে নিজে বিদেশ ট্যুরে রাজি হননি। খালেদা জানতেন, এটা জেল না। এটা কবর। এখানে ঢুকলে আর বের হতে না পারার সম্ভাবনাই বেশি। জেনেও কবরে ঢুকেছিলেন। যেখানে তাকে ভালো খেতে দেয়া হয়নি, চিকিৎসার সুযোগ চাইলে হাসিনা বলেছিলেন, অনেক বছরই তো বাঁচলো, আর কতো? খালেদা জিয়া হাসিনার জেলে ছিলেন। খাবারে বিষ মেশানোর ১০০ ভাগ সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও খালেদা সেই খাবার খেয়েছেন। নিজের জন্য খাননি। খেয়েছিলেন মানুষের জন্য। আমার আপনার জন্য। খালেদার আর পাওয়ার কী ই বা বাকি ছিল? তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধানের স্ত্রী, ফার্স্ট লেডি। পাওয়ার তো কিছু বাকি ছিল না। তবুও জেলে গিয়েছিলেন, জানতেন, হাসিনার সঙ্গে পারবেন না। তবুও তিনি বিদেশ না গিয়ে দেশের মানুষের সঙ্গে কষ্ট ভাগ করে নিয়েছিলেন। খালেদা জিয়া অসুস্থ। ভয়ংকর রকমের অসুস্থ। হাত সোজা করতে পারেন না। লিভারে ইনফেকশন ছড়াচ্ছে। হাসিনার জেলে না থাকলে কী খালেদাকে আজ এই পরিণতি হতো? না। হতো না। এই যে আজ তার ভয়ংকর অসুস্থতা, এই অসুস্থতা আমার আপনার জন্য তার করা কোরবানি। এই অসুস্থতা তারই চুজ করে নেয়া। আল্লাহ যেন আইসিইউতে শুয়ে থাকা এই নারীকে আমাদের কাছে সুস্থ করে ফেরত দেন। কারণ, আজ থেকে ৮ বছর আগে একদা এই নারী নিজের জীবন, পরিবার, স্বজন সবকিছু বাদ দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ আর গণতন্ত্রকে বেছে নিয়েছিলেন।
অসুস্থ খালেদা জিয়াকে ফুসফুস ও কিডনি দিতে চান দুই ভক্ত
এদিকে গতকাল এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বুকে একটি ব্যানার নিয়ে দাঁড়ান পঞ্চাশ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তিনি খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা শুনে কিশোরগঞ্জ থেকে ছুটে আসেন। তার বুকের ব্যানারে লেখা- ডাক্তার আমার ফুসফুস নিয়ে গণতন্ত্রের এই মহান নেত্রী খালেদা জিয়াকে দান করেন। এ সময় ফুসফুস দানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তো বেশি মানুষের উপকার করতে পারবো না। কিন্তু খালেদা জিয়া সারা বাংলাদেশের মানুষের উপকার করতে পারবেন। তাই আমি ফুসফুস দান করতে চাই। ওদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা আরেক নারী হাসপাতালের সামনে খালেদা জিয়ার জন্য বিলাপ করছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমার মায়ের (খালেদা জিয়া) যদি একটি কিডনির প্রয়োজন হয় তাহলে আমি আমার একটি কিডনি দিতে চাই। তারপরও যেন তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
বিভিন্ন দল ও সংগঠনের দোয়া মাহফিল
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে দোয়া মাহফিল করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনা করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতায় দোয়া কামনা করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও সদস্য সচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান। এক বিবৃতিতে এই দুই নেতা দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন। খালেদা জিয়ার সুস্থতায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদী তার সংগঠনের পক্ষে দোয়ার আয়োজন করেন। শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সুস্থতায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল করেন ওলামা দল। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে সাদা দলের উদ্যোগে এ মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতায় ডাকসুর পক্ষে ভিপি সাদিক কায়েমও বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। ওদিকে এ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জন্য ফজরের নামাজের পর মসজিদে মসজিদে দোয়া করা হয়েছে। বিএনপি’র পক্ষ থেকেও দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলা উপজেলার মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি পালন করা হয়। রোববার বাদ আসর গুলশানের সোসাইটি জামে মসজিদে আমরা বিএনপি পরিবারের পক্ষে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
হাসপাতালের সামনে ভিড় না করতে নেতাকর্মীদের আহ্বান বিএনপি’র
খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভিড় না করতে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষজন সেখানে ভিড় করছেন। দেশনেত্রীর প্রতি মানুষের আবেগ ও শ্রদ্ধার ফলশ্রুতিতেই মানুষের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় হাসপাতালে দেশনেত্রীর খোঁজখবর নিতে আসা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ের কারণে দেশনেত্রীসহ অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা সেবায় বিঘ্ন ঘটছে। এ কারণে বিএনপি এবং দেশনেত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে দলের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের এভারকেয়ার হাসপাতালে ভিড় না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।