মামলার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাওয়ায় গণপিটুনির শিকার হয়েছেন মোরসালিন শেখ নামের এক তরুণ। শুক্রবার রাতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের পাকুরতিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মোরসালিন শেখ ওই গ্রামের সাফায়েত শেখের ছেলে।
সেলিম তালুকদার নামের এক ড্রেজার মেকানিকের কাছে ওই টাকা দাবি করেন মোরসালিন শেখ। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে স্থানীয়রা তাঁকে গণপিটুনি দিয়ে আটক করে রাখেন। পরে মোরসালিনের পরিবারের সদস্যরা গ্রামবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন।
ড্রেজার মেকানিক সেলিম তালুকদার বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ড্রেজার মেকানিক হিসেবে কাজ করি। পাঁচ মাস পর গত বুধবার সিলেট থেকে আমার গ্রামের বাড়ি পাকুরতিয়া আসি। শুক্রবার রাতে আমার গ্রামের সাফায়েত শেখের ছেলে মোরসালিন শেখ আমাদের বাড়িতে এসে নিজেকে ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচয় দেয়। কথার এক পর্যায়ে মোরসালিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে নাকি ঢাকার কোতোয়ালি থানায় মামলা হবে, থানা থেকে মোরসালিনকে ফোন দিয়েছিল। তাই বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য তাঁকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে।’
সেলিম তালুকদার আরও বলেন, ‘আমি কোনো দল করি না, আমার নামে কেন মামলা হবে তা জানতে চাই। এ নিয়ে উচ্চৈঃস্বরে বাগ্বিতণ্ডা চলাকালে প্রতিবেশীরা এসে জড়ো হন। তখন ৫০ হাজার টাকা দাবির কথা জানালে এলাকাবাসী মোরসালিনকে গণপিটুনি দিয়ে আটক করে রাখেন। পরে তাঁর পরিবারের লোকজন এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।’
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত মোরসালিন শেখ টাকা দাবির কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘সেলিম তালুকদারদের বাড়ির এক ব্যক্তি আমাকে জানান সেলিম মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাই তাঁকে আমি সতর্ক করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে কোনো টাকা দাবি করিনি। আমার বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা কথা রটাচ্ছে।’
ছাত্রদল করেন জানিয়ে মোরসালিন বলেন, ‘আমি দলের কোনো পদে নেই।’
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক লাবিব হাসান বলেন, ‘মোরসালিন নামের যে ব্যক্তি টাকা চেয়ে ধরা পড়েছে, সে ছাত্রদলের ইউনিয়নের সদস্যও নয়। আগে তিনি ছাত্রলীগ করতেন। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্রদলের কিছু মিছিল-সমাবেশে অংশ নিতেন মাত্র। যদি তিনি ছাত্রদল পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে থাকেন, তাহলে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’