সদ্য প্রকাশিত ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত সুপারিশে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা। তার নাম রাইসুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
রাইসুলের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। তিনি ঢাবির স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। জুলাই আন্দোলনে জড়িত থাকায় গত মার্চে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তখন প্রশাসনের সুপারিশে বলা হয়েছিল, ‘১৫ জুলাই ২০২৪ তারিখে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় রাইসুল ইসলাম সরাসরি জড়িত।’
এদিকে বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতারা। তারা বলছেন, রাইসুল ইসলামের মতো সন্ত্রাসীর বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া অত্যন্ত লজ্জার। তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি তার মতো সন্ত্রাসীর বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য সরকারি কর্ম কমিশনসহ (পিএসসি) যারা এই সুপারিশ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
৪৫তম বিসিএসে রাইসুল ইসলামের পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবরটি ঢাবির স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন। তারা বলছেন, রাইসুল ইসলাম ছাত্রলীগের চিহ্নিত ক্যাডার। তার বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যেই সবাই জেনেছেন। বিসিএসের চাকরি হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। প্রচলিত আইনে তার শাস্তি হওয়া উচিত।
জানা গেছে, গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন। এ পরীক্ষায় ১ হাজার ৮০৭ জন সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ১৫ তারিখে ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ হামলায় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর গণমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজ দেখা যায়, রাইসুল সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি হামলায় করছেন। পরদিন ১৬ জুলাই বিভিন্ন গণমাধ্যমেও হামলা করার ছবি প্রকাশিত হয়।
পরবর্তী সময়ে ১৭ মার্চ ১২৮ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হামলা-সংক্রান্ত তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই বহিষ্কারের তালিকায় ৭২ নম্বরে রাইসুল ইসলামের নাম রয়েছে।
রাইসুল ইসলামের পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দিন খান ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী রাইসুল ইসলাম ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই সন্ত্রাসী গত বছরের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলায় সরাসরি জড়িত ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে স্পষ্ট যে, রাইসুল ইসলাম একজন সন্ত্রাসী। তার মতো সন্ত্রাসীর ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া অত্যন্ত লজ্জার।’
‘রাইসুল ইসলামকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তার মতো সন্ত্রাসীর বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য সরকারি কর্ম কমিশনসহ (পিএসসি) যারা এই সুপারিশ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া নিশ্চিত করে যে, প্রশাসনিক কাঠামোতে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা বহাল তবিয়তে রয়েছে এবং তারা এখনো দেশবিরোধী নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবে হাজারো শহীদ ও আহতদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারাও প্রশাসন থেকে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করা ও বিচারের আওতায় আনতে সক্ষম হয়নি।’
‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করুন এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার জন্য অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসুন।’