Image description

দক্ষ ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনাবিষয়ক পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ জন্য সম্প্রতি জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমানসহ টিম নিত্যপণ্যের বাজার পরিদর্শন করেছেন। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে সামনে রেখে বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় বিষয়ে ভবিষ্যতমুখী পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি; যা জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে স্থান পেতে পারে বলে জানা গেছে। ক্ষমতায় গেলে ধাপে ধাপে এগুলো বাস্তবায়ন করবে দলটি।

 

দেশের বাজার ব্যবস্থাপনায় একধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। বছরের পর বছর ধরে এ অবস্থা চলে এলেও মুক্তবাজার অর্থনীতির কথা বলে নিয়ন্ত্রণের তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয় না; বরং সরকার ট্যাক্স আদায় করেই যেন দায়িত্ব পালন শেষ করছে। নাগরিকরা ভোগান্তির শিকার হলেও তা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। এক দিকে উৎপাদনকারী কৃষক পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, অন্য দিকে নিত্যপণ্যের বাজারে গেলে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। পরিবহন খরচ, চাঁদাবাজি আর মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে দাম বাড়ছে হু হু করে। সকালে এক দাম তো বিকেলে একই বাজারে গেলে ওই একই পণ্য কিনতে হচ্ছে কেজিতে ১০-২০ টাকা বেশি দামে। যখন গ্রামের কৃষক পণ্যের ন্যায্য দাম না পেয়ে রাস্তায় পণ্য ফেলে প্রতিবাদ করছেন, তখন রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে সেই একই পণ্য কিনতে হচ্ছে পাঁচ থেকে দশ গুণ দামে। এতে কিছু লোক হঠাৎ বিত্তবান হলেও বেশির ভাগ মানুষই হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত।

 

ওয়ার্ল্ড ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত বছর বাংলাদেশের জিডিপির ১১ শতাংশই ছিল কাঁচামাল ও কৃষিকেন্দ্রিক বাজার প্রবাহের মাধ্যমে। এ ছাড়া এসব বাজারে বার্ষিক লেনদেন হচ্ছে প্রায় ৬.৫ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু কাওরানবাজারেই প্রতিদিন প্রায় চার হাজার পরিবহন শ্রমিক ও ১০ হাজার বাজার শ্রমিক কাজ করছেন। এ ছাড়াও দেশের অন্যান্য বাজারেও লাখ লাখ শ্রমিক কাজ করেন প্রতিনিয়ত। যারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

জামায়াত সূত্রে জানা যায়, এ প্রেক্ষিতে দক্ষ ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনাবিষয়ক পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে জামায়াতে ইসলামী। এ জন্য সম্প্রতি দলটির আমির ডা: শফিকুর রহমানসহ টিম নিত্যপণ্যের বাজার পরিদর্শন করেন।

জামায়াতের বাজার গবেষণায় বাজার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মোট ছয়টি সমস্যা ধরা পড়েছে। এগুলো হলো- ১. কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি, ২. পরিবহন সিন্ডিকেট ও অবৈধ চাঁদাবাজি, ৩. লোডিং-আনলোডিং, গুদাম ও মজুদের অতিরিক্ত চার্জ, ৪. অঞ্চলভেদে অস্বাভাবিক মূল্য ব্যবধান, ৫. ভেজাল বা নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য ও ৬. পরিচ্ছন্নতার অভাব, দুর্গন্ধ ও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা।

সম্প্রতি এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বক্তব্য প্রকাশ করেছেন জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমান। এতে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারগুলোতে প্রতিদিন যে বিপুল লেনদেন হয়, তা পুরো অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লেনদেনের ইতিবাচক প্রভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে দক্ষ ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য। দক্ষ ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়নে সম্প্রতি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির বাজার ভিজিট করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং করণীয় বিষয়ে একেবারে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে সামনে রেখে ভবিষ্যতমুখী পরিকল্পনা প্রণয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, ক্রমান্বয়ে তা জাতির কাছে উন্মুক্ত করা হবে।

তিনি আরো লিখেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণাভিত্তিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতা নির্ভর নীতিমালা প্রণয়ন করে আসছে। আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় এবং জনগণের ভালোবাসায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারলে এই বিস্তারিত পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিশ্চিত করা হবে, ইনশা আল্লাহ।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের দেশের বাজার ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রয়েছে। একটি পণ্যের দেশের এক অঞ্চলে উৎপাদন বেশি হচ্ছে আবার অন্য জায়গায় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। দেশের মধ্যেই সম্পদ থাকলেও দ্বিগুন দামে কিনতে হচ্ছে। বাজার ব্যবস্থাপনা সঠিক না থাকার কারণেই এটি হচ্ছে। বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক থাকবে। এজন্য আমরা বিষয়টি নিয়ে গবেষণাভিত্তিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতানির্ভর নীতিমালা প্রণয়ন করছি। যাতে সরকারে গেলে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা যায় এবং দ্রব্যমূল্যের অযৌক্তিক বৃদ্ধি বন্ধ করা যায়।