Barr Nazir Ahmed (নজির আহমেদ)
- উপমহাদেশে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতারা কত যে অনিরাপদ তা দুটি উদাহরণ থেকে বুঝা যাবে। প্রথমত: রাজীব গান্ধিকে ফুল দিতে গিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানো হল যার ফলশ্রুতিতে রাজিব গান্ধী নিহত হলেন। দ্বিতীয়ত: বেনজির ভুট্টোকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক জনসভায় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।
- তারেক রহমান উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল ও বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের কার্যত প্রধান ব্যক্তি। তাঁর দল তো বটেই, বাংলাদেশের মধ্যে অসম্ভব জনপ্রিয় নেতা। তাঁর অনুপস্থিতি তাঁর জনপ্রিয়তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাঁর দল নির্বাচনে জয়ী হলে তিনিই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী
।
- তারেক রহমান জিয়া পরিবারের লিগ্যাসি বহনকারী আমাদের প্রজন্মের সর্বশেষ ব্যক্তি, বংশের চেরাগ। তিনিই বর্তমান বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে একমাত্র সৌভাগ্যবান ব্যক্তি যাঁর পিতা ছিলেন রাষ্ট্রপতি, মাতা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নিশ্চয়ই তাঁর নিরাপত্তার ব্যাপারটি সর্বোচ্চ বিবেচনার দাবী রাখে তাঁর দলের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে এবং আগামীর বাংলাদেশের স্বার্থে।
- বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হননি। দেশের সবকিছুর উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এখনও পতিত সরকার কর্তৃক গণঅভ্যুত্থান ঠেকানোর নামে তাদের দলীয় সন্ত্রাসীদের দেয়া মারাত্মক অস্ত্রগুলো (যেমন AK-47, lethal weapon, গ্রেনেড ইত্যাদি) উদ্ধার করতে পারেনি। তাছাড়া জনাব তারেক রহমানকে যারা নির্মমভাবে নির্যাতন করেছিল ঐ সময়ে মাঠ পর্যায়ের/জুনিয়র পর্যায়ের কর্মকর্তা হলেও হাল আমলে অনেক উঁচু ও প্রভাবশালী পজিশনে আছে বা রয়েছে। তাছাড়া তাঁকে নিয়ে আন্চলিক ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রও উড়িয়ে দেয়া যায় না।
- সবকিছু মিলিয়ে তারেক রহমানের নিরাপত্তা কনসার্ন সত্যিই বাস্তব ও যৌক্তিক। সুতরাং এ নিয়ে না বুঝে, অতি আবেগী হয়ে, বিরোধিতার কারনে বা রাজনৈতিক কারণে হালকা বা তীর্যক মন্তব্য করা ঠিক নয়। তারেক রহমান অবশ্যই দেশে যাবেন, তাঁকে যেতেই হবে। তবে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে শতভাগ সরকারকে ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে।