'নাদেখেই গণভোটে হ্যাঁ দিয়েছি। কারণ, এখানে দেখার সুযোগ হয়নি। সময় কম। গোপন কক্ষে গিয়েও যদি আমি সবগুলো অপশন পড়তে যাই, তাহলে ভোট দিতে অনেক সময় লেগে যাবে।'
আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মক ভোটিংয়ে অংশ নেওয়ার পর ভোটার এ.কে আবু হানিফ এ মন্তব্য করেন।
আবু হানিফ বলেন, ‘আজ যখন এখানে ভোট দিতে এসেছি, তখনও আমাদের জানানো হয়নি গণভোটে কি কি থাকবে। আগে থেকে যদি ব্রিফ করতেন, তাহলে আমরা বুঝতে পারতাম। আবার সব পড়ার সুযোগও ছিল না। তারপরও হ্যাঁ ভোট দিয়েছি।’
হাফিজুর রহমান একই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গণভোট দিয়েছি কিন্তু না দেখে, না পড়ে। আগে থেকে আরও জানা থাকলে ভালো হতো।’
ভোট দিতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়েননি বলে জানিয়েছেন আবুল কালাম নামের আরেক ভোটার। তিনি বলেন, ‘আমি না ভোট দিয়েছি। হঠাৎ করে ভোট হলো। আগে থেকে কিছু জানতে পারিনি। তবে, আমি না ভোট দিয়েছি। আগে থেকে জানতে পারলে ভালো হতো।’
হাজি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম নামের আরেক ভোটার বলেন, ‘একই দিনে দুটি ভোট হলে একটু সমস্যা তৈরি হয়। গণভোটে কি কি বিষয় আছে, তা জানার সুযোগ হয়নি। আমি ভালোভাবে বুঝতে পারলে জেনে-বুঝে হ্যাঁ বা না ভোট দিতে পারতাম। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন আরও ভূমিকা রাখতে পারতো। তবে, হ্যাঁ ভোট নাকি না ভোট দিয়েছি, তা জানাতে চাচ্ছি না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী ভোটার বলেন, ‘ভালো পরিবেশে ভোট দিয়েছি। কিন্তু গণভোট দিয়েছি না দেখেই। গণভোট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানানো দরকার সবাইকে। যেমন আমি আজ গণভোটের প্রশ্নগুলো পড়তে পারিনি। মানে, সময় পাইনি।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে আজ শনিবার ‘মক ভোটিং’ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে ভোটের কার্যক্রম। নারী-পুরুষ মিলে ৫০০ জন ভোটার এদিন ভোট দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মক ভোটিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছে। যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে, তাই পুরো প্রক্রিয়া আরও দক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আমরা আগেই অভিজ্ঞতা ঝালাই করে নিতে চাই। এই মক ভোটিংয়ের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো লাগবে কি না, কোথাও সমন্বয়ের প্রয়োজন কি না, ভোটকক্ষ ও জনবল বাড়বে কি না—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইসির মক ভোটিংয়ে সিনিয়র ভোটার, বস্তিবাসী, শিক্ষার্থী, তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক, প্রতিবন্ধী ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) প্রকল্পের ভোটাররা অংশ নিচ্ছেন।