Image description

Hafijur Rahman (হাফিজুর রহমান)

১. সম্প্রতি অনেকেই এই প্রশ্নটি করছেন। সর্বশেষ জনপ্রিয় অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফাহাম আব্দুস সালামও করেছেন। এমনকি জামায়াতের ভেতরে কিংবা জামায়াতকে ভালোবাসেন এমন অনেকেও এই প্রশ্নটি করছেন। এই প্রশ্নটি নিজেই জামায়াতের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। এর মানে হলো, এসব মানুষ জামায়াতকে ক্ষমতার কাছাকাছি মনে করছেন।
 
২. একটি দেশ পরিচালনায় সব লোক এক নম্বর দল থেকেই হতে হবে—এমন কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং তা সম্ভবও নয়। বিশ্বে হাতে গোনা দু-একটি উদাহরণ থাকতে পারে কিন্তু ঢালাওভাবে কোথাও হয়নি। তাহলে কিভাবে হয়? ক্ষমতাসীন দলগুলো যোগ্য লোকদের অন্তর্ভুক্ত (ইন্টিগ্রেশন) করে। জামায়াতও তাই করবে। যেকোনো সেক্টরে যেকোনো লোক যদি যোগ্য ও সৎ হন, তাহলে জামায়াত তাকে বাদ দেবে কেন? সেই ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা, মুসলিম না অমুসলিম—এটা পরের হিসাব। যোগ্য লোককে জামায়াত অবশ্যই তার প্রাপ্য মূল্যায়ন করবে। ইতোমধ্যে জামায়াতের আমির বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন এবং বারবারই বলেছেন যে, "আমরা সবাইকে নিয়েই দেশকে গড়তে চাই। এখানে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই নাগরিক।" পাশাপাশি নারীদের ক্ষেত্রেও জামায়াতের আমির বারবার বলেছেন, "নারীরা তাদের নিজ নিজ জায়গায় কাজ করবে। এতে কোনো সমস্যা নেই।" মোদ্দাকথা, জামায়াত ক্ষমতায় এলে সব জায়গায় কেবল নিজের রুকনদের বসাবে—এই ধারণাটি অসার। বিশেষত আমলা ও টেকনিক্যাল জায়গাগুলোতে জামায়াত অন্তর্ভুক্তি (ইন্টিগ্রেশন) করবে এবং যোগ্য ও সৎদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দেবে।
 
৩. গত কয়েকটি সরকারে যারা মন্ত্রী ছিলেন, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড আমরা দেখেছি। হাতে গোনা দু-একজন ছাড়া অধিকাংশই ছিলেন অনভিজ্ঞ। আপনাদের মনে থাকার কথা, ২০০৯ সালে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা তার কোনো ডাকসাইটের নেতাকে মন্ত্রী বানায়নি। আমি হলফ করে বলতে পারি, গত তিনটি সরকারের সময় যারা মন্ত্রী ছিলেন, জামায়াতের মধ্যে তাদের তুলনায় অনেক বেশি যোগ্য লোক রয়েছে। জনগণ যদি জামায়াতকে ভোট দেয়, তবে নিশ্চিতভাবে এদের চেয়ে অনেক যোগ্য ও সৎ লোকই মন্ত্রিসভায় আসবে। পাশাপাশি জামায়াত একাই সকল মন্ত্রনালয় চালানোর চিন্তা করেনা, সবাইকে নিয়েই দেশ গড়বে। অবশ্যই অন্যান্য দল থেকে গুরুত্বপূর্ণ লোকদের মন্ত্রী করবে।
 
৪. বিগত সরকারগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণ করেছেন হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তি, যারা সত্যিই একাডেমিকভাবে দক্ষ ছিলেন। যেমন: ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় গওহর রিজভী কিংবা তার মতো ব্যক্তিরা। আমি যতটুকু জানি, এই জায়গাতেও জামায়াত সিগনিফিকেন্ট কাজ করছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়ে কয়েক শত তরুণ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেছেন এবং বর্তমানে শিক্ষকতা করছেন অথবা বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ও ইন্ডাস্ট্রীতে উচ্চপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা জামায়াতের আমিরের একটি নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন। জামায়াতের আমির যদি বলেন, "তোমরা দেশে আসো," তবে কয়েকশ উচ্চ শিক্ষিত ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানুষ দেশে আসার জন্য প্রস্তুত যারা সংশ্লিষ্ট সেক্টরগুলোকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
 
৫. জামায়াতের আমিরের একটি চমৎকার গুণ রয়েছে—তিনি সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে যেকোনো মানুষের সঙ্গে সহজেই মিশতে পারেন এবং যোগ্য ব্যক্তিদের স্ব স্ব জায়গায় কাজে লাগাতে পারেন। তিনি এভাবে কাজে লাগাচ্ছেন এবং নানা সেক্টরে স্ট্রং টিম তৈরী করছেন। পাশাপাশি আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি যে, তিনি কখনো "সবকিছুই আমার বা আমার দলের হতে হবে"—এমন চিন্তা করেন না। জামায়াত সরকার গঠন করলে তিনি সবাইকে (বিভিন্ন দল ও জোট এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ ) নিয়ে কাজ করবেন।
সুতরাং, জামায়াতকে ভোট দিলে কিভাবে দেশ চালাবে—সেটা আর চিন্তা করার দরকার নেই। জামায়াত যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে, তবে সেরা সরকারই উপহার দেবে।