Image description
 

জুডিশিয়াল কিলিং ও গণতন্ত্র হত্যার সঙ্গে জড়িত বিচারকরা পুরস্কৃত হয়েছেন সর্বোচ্চ পদ লাভের মাধ্যমে। প্রধান বিচারপতি পদে পুরস্কৃত হয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষের বিচারকরা।

একইভাবে জুডিশিয়াল কিলিংয়ে জড়িতরাও পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের পদ। হাসিনার পতনের পরও তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের অনেকেই একরকম আত্মগোপনে রয়েছেন।

আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৫ আগস্ট বিপ্লবের পর অনেকেই বাসাবাড়ি ছেড়ে দিয়ে আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। তাদের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, সরকারের ঢিলেঢালা আচরণে এখন আবার বাড়িতে ফিরেছেন অনেকেই। যদিও তারা জনসমক্ষে বের হন না। কথা বলেন না সাংবাদিকদের সঙ্গে।

উচ্চ আদালতের বিচারকরাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিবাদের পাটাতন গড়ে দিয়েছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়টি ছিল বিনা ভোটে; আবার কখনো রাতের ভোটে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণার ভিত্তি। নির্বাচনের নামে ভোটার অনুপস্থিতির মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার পথ তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল হাসিনাকে। হাসিনা ১৫ বছর ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন মূলত এই রায়ের কারণেই।

প্রতিদান হিসেবে উচ্চ আদালতের সেসব বিচারককে পদ-পদবি দিয়ে খুশি করেন হাসিনা। একইভাবে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের রায় দেওয়া বিচারকরাও পুরস্কৃত হয়েছেন ধাপে ধাপে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের সঙ্গে জড়িত সবাইকেই প্রধান বিচারপতি পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। এদের সবাই আবার জুডিশিয়াল কিলিং চূড়ান্তকরণেও সম্পৃক্ত ছিলেন।

জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্র ধ্বংসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বিচারপতি খায়রুল হক, মোজাম্মেল হোসেন, সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা ও সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তাদের সবাই আবার আপিল বিভাগে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের রায়ও চূড়ান্ত করেছিলেন। চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে মুন সিনেমা হলের মালিকানা মামলায় ৫ম সংশোধনী বাতিল করে পুরস্কৃত হন খায়রুল হক। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা ত্রাণও দেওয়া হয়েছিল তাকে। যদিও তিনি উচ্চ বেতন-ভাতার চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

ক্ষমতায় এসেই ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে হাসিনা খায়রুল হককে প্রথমে আপিল বিভাগে নিয়োগ দিয়ে পুরস্কৃত করেন। ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ফজলুল করিম প্রধান বিচারপতি পদ থেকে অবসরে গেলে দুজনকে ডিঙিয়ে প্রধান বিচারপতি বানিয়ে পুরস্কৃত করা হয় খায়রুল হককে। তখন আপিল বিভাগে সিনিয়র ছিলেন শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান ও এমএ মতিন। আদালত অবমাননার অভিযোগে আমার দেশ সম্পাদক ও এই প্রতিবেদককে শাস্তি দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন এ দুজন।

কিন্তু কোনো কাজেই আসেনি আমার দেশ-এর বিরুদ্ধে তাদের তৎপরতা। শেষ পর্যন্ত খায়রুল হক তাদের সুপারসিড করে প্রধান বিচারপতি হন। প্রতিবাদস্বরূপ এ দুই বিচারপতি আদালতে বসা থেকে বিরত ছিলেন কিছুদিন। তবে পতদ্যাগ না করে নীরব ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিচার কর্যক্রম থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রেও নিজেদের অবস্থানে অটুট থাকতে সক্ষম হননি তারা। কিছুদিন পরই অভিমান ভেঙে খায়রুল হকের সঙ্গে বিচারকের আসনে বসেছিলেন। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর খায়রুল হককে আবারও পুরস্কৃত করা হয় আইন কমিশনে নিয়োগ দিয়ে।

তবে অবসরের পর এমএ মতিনকে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ দিয়েছিল ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার সরকার। অবসরের পর এ ধরনের নিয়োগকেও পুরস্কার হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে।

তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের রায়ে জড়িতরা পুরস্কৃত

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল খায়রুল হক শুনানির জন্য আনেন অবসরে যাওয়ার আগ মুহূর্তে। শুনানি করে তিনি সংক্ষিপ্ত রায়ও দিয়েছিলেন অবসরে যাওয়ার আগের দিন। তখন আপিল বিভাগে বিচারকের সংখ্যা ছিল ৭ জন। অবসরে যাওয়ার আগ মুহূর্তে রাজনৈতিক ইস্যু সম্পর্কিত আপিল স্ব-উদ্যোগে শুনানির জন্য তালিভুক্ত করার পরই সংশয় তৈরি হয়েছিল। অসৎ উদ্দেশ্যেই যে তিনি আপিলটি শুনানির তালিকাভুক্ত করার জন্য তৎপর হয়েছিলেন, সেটা পরিষ্কার হয়ে যায় রায়ের পর।

৭ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগে শুনানিতে ৮ জন সিনিয়র আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দিয়ে তাদের মতামত নেওয়া হয়েছিল। প্রত্যেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে অভিমত ও যুক্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু খায়রুল হকসহ ফ্যাসিবাদের অনুগত চার বিচারপতির কাছে এই যুক্তি ও অভিমত পাত্তা পায়নি। অ্যামিকাস কিউরিদের যুক্তিকে উড়িয়ে দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের যুক্তিকেই গুরুত্ব দেন খায়রুল হকসহ ৪ জন।

বিভক্ত রায়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। যদিও প্রথম ঘোষিত সংক্ষিপ্ত বিভক্ত রায়ে বলা হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আরো দুটি নির্বাচন হতে পারে এবং বলা হয়েছিল এ ব্যবস্থা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় সংসদ।

অবসরে যাওয়ার দেড় বছর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে রায় খেখেন খায়রুল হক। পূর্বঘোষিত পরবর্তী দুই নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়ার বিষয়টিও বাদ দেওয়া হয় লিখিত রায়ে। নির্বাচনি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার পরিকল্পনা থেকেই লিখিত রায়ে খায়রুল হক গণতন্ত্রের কফিনে পেরেক মারেন। ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার পথ উন্মুক্ত করে দেন হাসিনাকে। খায়রুল হকের পক্ষে একমত হন মোজাম্মেল হোসেন, এসকে সিনহা ও সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

এদের মধ্যে এসকে সিনহা খায়রুল হকের রায়ের পক্ষে শুধু একমত হয়েই ক্ষান্ত হননি। তিনি নিজে বাড়তি যুক্তি দিয়ে আরো ৯০ পৃষ্ঠা লেখেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের বিপক্ষে অর্থাৎ বহাল রাখার পক্ষে রায় লেখেন আবদুল ওয়াহাব মিঞা, নাজমুন আরা সুলতানা ও ইমান আলী। নাজমুন আরা সুলতানা মূলত আবদুল ওয়াহাব মিঞার লেখা রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। ইমান আলী নিজে একটি রায় লেখেন। তিনি কারো সঙ্গে একমত পোষণ করেননি। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষেই তার অবস্থান নির্ণয় করা হয়।

তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের পক্ষের চারজনকেই করা হয় প্রধান বিচারপতি

খায়রুল হক অবসরে গেলে মোজাম্মেল হোসেনকে প্রধান বিচারপতি পদে বসিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। মোজাম্মেল হোসেনের পর প্রধান বিচারপতি পদে বসিয়ে পুরস্কৃত করা হয় এসকে সিনহাকে। হাসিনা-ঘনিষ্ঠ এসকে সিনহা হঠাৎ করেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে একসময়ের সহযোগী ও অতিবিশ্বস্ত এসকে সিনহাকে গলাধাক্কা দিয়ে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেন হাসিনা। বিদেশে থেকেই এক পর্যায়ে এসকে সিনহা পদত্যাগে বাধ্য হন।

এসকে সিনহাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার রাতেই আবদুল ওয়াহাব মিঞার বাসায় পাঠানো হয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে দেওয়ার চিঠি। তৎকালীন আইন সচিব নিজে রাত ১২টার পর আবদুল ওয়াহাব মিঞার বাসায় ওই চিঠি পৌঁছে দিয়েছিলেন। অথচ কিছুদিন পরই প্রধান বিচারপতির পদে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয় সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে। শেখ হাসিনা আবদুল ওয়াহাব মিঞার ওপর আস্থা রাখতে পারেননি। কারণ, আবদুল ওয়াহাব মিঞা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাখার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে শেখ হাসিনার ইচ্ছার বিপরীতে রায় লিখেছিলেন। আবদুল ওয়াহাব মিঞা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির পদে থাকা অবস্থায় তাকে ডিঙিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগ পান কর্মে জুনিয়র সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে আবদুল ওয়াহাব মিঞা পদত্যাগ করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষে খায়রুল হকের সঙ্গে একমত হওয়ার পুরস্কার হিসেবেই আবদুল ওয়াহাব মিঞাকে ডিঙিয়ে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে।

উল্লেখ্য, পুরস্কৃতদের মধ্যে তিনজন জুডিশিয়াল কিলিংয়ের রায়ও দিয়েছিলেন। আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন থেকে ফাঁসির দণ্ড দিয়ে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের রায় দেওয়া হয়েছিল মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে। তার সঙ্গে ছিলেন এসকে সিনহা, আবদুল ওয়াহাব মিঞা, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী (মানিক)। এসকে সিনহা ছিলেন মূল রায়ের লেখক। ওই রায়ে একমাত্র আবদুল ওয়াহাব মিঞা জুডিশিয়াল কিলিংয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। তৎকালীন প্রধান বিচারপতির আসনে থাকা মোজাম্মেল হোসেন, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী একমত হন সুরেন্দ্র কুমারের লেখা রায়ের সঙ্গে; পাশাপাশি শামসুদ্দিন চৌধুরী নিজেও কিছু অভিমত লেখেন।

জুডিশিয়াল কিলিংয়ে জড়িত আরো যারা পুরস্কৃত

জুডিশিয়াল কিলিংয়ে জড়িতদের মধ্যে শুরুর দিকে ছিলেন নিজামুল হক নাসিম, এটিএম ফজলে কবীর, জাহাঙ্গির হোসেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে যুক্ত হন ওবায়দুল হাসান শাহিন, ইনায়েতুর রহিম, শাহিনুর ইসলাম। তাদের প্রত্যেকেই শেখ হাসিনা দ্বারা পুরস্কৃত হয়েছেন।

স্কাইপি স্ক্যান্ডাল প্রকাশের পর নিজামুল হক নাসিমকে ট্রাইব্যুনাল থেকে সরিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে আপিল বিভাগে নিয়োগ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয় তাকে।

এটিএম ফজলে কবীরকে অবসরে যাওয়ার পরপরই আইন কমিশনে নিয়োগ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত তিনি আইন কমিশনে সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

একইভাবে খায়রুল হককেও প্রধান বিচারপতি পদ থেকে অবসরের পরপর আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বানানো হয়। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন টানা আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদে ছিলেন।

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ওবায়দুল হাসান শাহিনকে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের রায়ের পুরস্কার হিসেবে ট্রাইব্যুনালে থেকে হাইকোর্টে ফিরিয়ে নিয়ে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েও পুরস্কৃত করা হয় তাকে।

একই কায়দায় আরেক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইনায়েতুর রহিমকেও ট্রাইব্যুনাল থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনিও পরবর্তীতে ওবায়দুল হাসানের পর প্রধান বিচারপতি হওয়ার পাইপলাইনে ছিলেন।

আরেক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত জাহাঙ্গির হোসেনকে ট্রাইব্যুনাল থেকে ফিরিয়ে আপিল বিভাগে নিয়োগ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল থেকে ফিরিয়ে নিয়ে ৫৭ জনকে ডিঙিয়ে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল শাহিনুর ইসলামকে।

এদের সবাইকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেওয়ার সময় অন্ততপক্ষে ৩০ জনের বেশি বিচারককে ডিঙানো হয়। জুডিশিয়াল কিলিংয়ের রায় দেওয়ার পুরস্কার হিসেবেই সিরিয়ালে ওপরে থাকা অন্যদের বঞ্চিত করে তাদের আপিল বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে মাত্র দুজনকে ডিঙিয়ে রুহুল আমিনকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন আইনজীবীরা। সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমদের নেতৃত্বে ৬ জন সিনিয়র আইনজীবী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রতিবাদ জানিয়ে বিষয়টির প্রতিকার চেয়েছিলেন। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট অচল করে দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল আন্দোলনের ফলে। কিন্তু হাসিনার বিগত ১৫ বছর সময়ে সুপারসিডের বিরুদ্ধে তেমন কোনো আওয়াজ দেখা যায়নি।