Image description

নিয়মিত পুলিশ চেকপোস্ট ও নজরদারির অভাবেই রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়ক পর্যন্ত নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে অনেকেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, আবার নজরদারি কমলে নৈরাজ্য বেড়ে যায়।

গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের কারণে মোটরসাইকেলের রেস খেলা, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা, যত্রতত্র রাস্তা পার হওয়া, উল্টোপথে গাড়ি চলা ও  বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলাচল বেশ কিছুদিনবন্ধ ছিল। অভযান বন্ধ হওয়ার পর আবারও সব শুরু হয়েছে।

এই সড়কে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বলছেন, তারা চেকপোস্ট বসান এবং নিয়মিত গাড়ি চলাচল নজরদারিতে রাখেন। তারপরও অনেকেই আইন মানছেন না। তবে সামনে প্রয়োজনে আরো কঠোরভাবে এসব নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, কোন দুর্ঘটনা ঘটার পর তা আলোচনায় আসলে কয়েকদিনের জন্য নড়েচড়ে বসে পুলিশ। পরে যেই কে সেই অবস্থা। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে এই সড়কের পাশে অবৈধ দখলদারি ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল বন্ধ করা সবচেয়ে জরুরি। রাস্তার পাশে অবৈধ হকার, পান-সিগারেটের দোকান ও ঝালমুড়ি বিক্রেতারা পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এই অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব।

জানা যায়, ৩০০ ফিট সড়কে কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে মস্তুল পর্যন্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দেখভাল করেন ডিএমপির গুলশান ট্রাফিক বিভাগ, এরপরের অংশ রূপগঞ্জ থানা পুলিশের আওতায়।

রূপগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, গত বছর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০০ গাড়িকে অতিরিক্ত গতির জন্য সতর্ক করে দিয়েছিল। এর আগের বছর ২০২৩ সালের নভেম্বরেই ৩০০ ফিট সড়কে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১১৯টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। এ ছাড়া জরিমানা আদায় করা হয়েছিল দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা।

স্থানীয়রা জানান, পূর্বাচলকেন্দ্রিক গড়ে উঠা নীলা মার্কেট ও বিভিন্ন সেক্টরে গভীর রাত অবধি দোকানপাট খোলা থাকার কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থী ও ধনাঢ্য ব্যক্তির সন্তানেরা এ সড়কে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালাতে আসে। বেশিরভাগ সময়ে তাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে আগে যে কয়টি চেকপোস্ট ছিল সেগুলোর সব কটি এখন তেমন দেখা যায় না।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, সড়কটার একটা অংশ পড়েছে  ডিএমপি। আরেকটা অংশ রূপগঞ্জ থানার অধীনে। রূপগঞ্জের অংশে যারা দায়িত্বরত আছে, তাদের সঙ্গে আলাপ করে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলবো। একইসঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাফিক আইন মানার বিষয়ে সকল নাগরিক সমাজেরও সচেতন থাকা জরুরি বলে মনে করি।

অন্যদিকে ডিএমপির অংশ নিয়ে গুলশান ট্রাফিক বিভাগের উপ কমিশনার মফিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। তারপরও কিছু মানুষ আইন মানতে চাচ্ছে না, তাদেরকে বুঝাচ্ছি, প্রয়োজনে মামলা দিচ্ছি। সামনে আরো অন্য কোনো কার্যকর প্রদক্ষেপ নেওয়া যায়  কি না সে ব্যাপারে দেখছি।