যশোরে ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারন ইউনিয়নের শরিফপুর গ্রামে মা ও তার শিশুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে গৃহবধূ রেবেকা খাতুন (৩০) ও তার দুই বছর বয়সী ছেলে সোহরাব হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে মা ও শিশুকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত রেবেকার স্বামী জনি মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত রেবেকার শ্বশুর রবিউল ইসলাম ও শাশুড়ি পরিছন বেগম বলছেন, জমি বিক্রি নিয়ে রেবেকার বোন সাফিয়া বেগমের সাথে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে রেবেকা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে তাদের ধারণা।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহতের বোন সাফিয়া বেগম। তিনি দাবি করেন, জনি মিয়া মাদকাসক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে তার বোনের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রেবেকা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা যাবে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।