আসন্ন জাতীয় বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক স্বস্তির বার্তা আসতে পারে। মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে কর ছাড়ের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, প্রযুক্তিপণ্য, গৃহস্থালি ইলেকট্রনিকস, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম এবং ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে এসব খাতে পণ্যের দাম কমার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
আগামী অর্থবছরের জন্য আসছে বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট। বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে চাল, ধান, গম, ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি এসব পণ্যের ওপর বিদ্যমান রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহারের প্রস্তাবও আসতে পারে।
এবারের বাজেটে গৃহস্থালি পণ্য ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলি, আয়রন, রাইস কুকার, মাল্টি কুকার, প্রেসার কুকারের পাশাপাশি সমজাতীয় পণ্য ইলেকট্রিক কুকার, ইন্ডাকশন কুকার, ইনফ্রারেড কুকার, ওয়াটার পিউরিফায়ার ও ওয়াটার হিটার/গিজারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যে দাম কমার সুখবর থাকতে পারে।
মোবাইল, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তি খাতে স্বস্তি
মোবাইল ফোন উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর উৎসে কর কমানোর পাশাপাশি সিমের ওপর বিদ্যমান ৩০০ টাকার কর বাতিলের প্রস্তাব রয়েছে। ফলে নতুন সিম কেনা এবং মোবাইল ফোনের উৎপাদন ব্যয় কমতে পারে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর ছাড় অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ যন্ত্রপাতি আমদানিতেও কর অব্যাহতির সুবিধা বাড়ানো হতে পারে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ জোগাবে।
ইলেকট্রিক গাড়ি, বাস ও ট্রাক আমদানিতে উৎসে কর শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব থাকায় পরিবেশ-বান্ধব যানবাহনের বাজারও সম্প্রসারিত হতে পারে।
প্রযুক্তিপণ্যে কর ছাড়
এ ছাড়া কম্পিউটার প্রিন্টার, মনিটর, ফ্ল্যাশ মেমোরি এবং অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্য আমদানিতে আগাম কর কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে প্রযুক্তিপণ্যের দাম কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের ওপর উৎসে কর উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ বাজেট পাস হলে এটি হবে দেশের ৫৫তম এবং বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।