প্রথমবারের মতো ভারতে জন্মহার এমন একটি পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটির জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবনার প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে।
বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বলছে, প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়েও কম হতে জনসংখ্যা। এতে ভবিষ্যতে শ্রমশক্তির ঘাটতি এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান, বিশেষ করে দেশের বৃহত্তম জনমিতিক জরিপ ‘স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এসআরএস)’-এর তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরেই ভারতে জন্মহার কমছিল। তবে এতদিন পর্যন্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি বজায় রাখার মতো পর্যায়ে তা ছিল।
গত মে মাসে ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও জনগণনা কমিশনারের কার্যালয় প্রকাশিত সর্বশেষ এসআরএস প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটির মোট প্রজনন হার (টোটাল ফার্টিলিটি রেট বা টিএফআর) কমে নারীপ্রতি গড়ে ১ দশমিক ৯ সন্তানে দাঁড়িয়েছে। অথচ দীর্ঘমেয়াদে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে এই হার অন্তত ২ দশমিক ১ হওয়া প্রয়োজন।
টিএফআর বলতে একজন নারী তার জীবদ্দশায় গড়ে কতটি সন্তানের জন্ম দেবেন, তা বোঝায়। দুই হাজার সালের শুরুর দিকে ভারতে এই হার ছিল নারীপ্রতি প্রায় ৩ দশমিক ৩ সন্তান।
ভারতের অর্থনীতিবিদ দীপা সিনহা আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, “যখন সমাজে নারীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ে, জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহারের সুযোগ সহজ হয় এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা বৃদ্ধি পায়, তখন সাধারণত প্রজনন হার কমে আসে। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলে সন্তান প্রতিপালনও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যা জন্মহার হ্রাসে প্রভাব ফেলে।”
তার মতে, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো শিশু মৃত্যুহার কমে যাওয়া। শিশুদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়লে পরিবারগুলো সাধারণত বেশি সন্তান নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না।
মে মাসে প্রকাশিত জনমিতিক জরিপ অনুযায়ী, উত্তর ভারতের দরিদ্রতম রাজ্যগুলোর একটি বিহারে, যেখানে শিক্ষার হার তুলনামূলক কম এবং শিশু মৃত্যুহার বেশি।
বিহারে দেশের সর্বোচ্চ প্রজনন হার রেকর্ড করা হয়েছে- নারীপ্রতি গড়ে ২ দশমিক ৯ সন্তান। এর পরেই তালিকায় রয়েছে উত্তর প্রদেশ। যেখানে এই হার ২ দশমিক ৬।