Image description

স্বৈরাচার সরকারের আমলে এস আলম গ্রুপের লুটপাটের পর ইসলামী ব্যাংক যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, তখন নতুন সরকার অর্থ উদ্ধারের বদলে ব্যাংকটি লুট করতে দুর্নীতিবাজদের বসিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জোরপূর্বক দখল করা শেয়ার প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দিয়ে সৎ লোকদের মাধ্যমে ব্যাংকটি পরিচালনা করা না হলে তিন কোটি গ্রাহক রাস্তায় নামবে এবং দেশে বড় ধরনের গণআন্দোলন তৈরি হবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে এক সাধারণ আলোচনার ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে ‘দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারসমূহ বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের নিকট প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ’ করার দাবিতে এ আলোচনার প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ইসলামী ব্যাংকের অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উৎসাহ ও অনুমোদনে দেশে প্রথম ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), কুয়েত ফাইন্যান্স, আল-রাজি গ্রুপের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের ফান্ডিং এবং দেশের সাধারণ মানুষের অর্থে এই ব্যাংক গড়ে ওঠে। চরম সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হওয়ায় এটি এশিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং তিন কোটি মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়।

বিগত সরকারের আমলের লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বৈরাচার যখন ক্ষমতায় এলো, তারা এই ব্যাংক লুটপাটের সিদ্ধান্ত নেয়। এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ২৬টি ভুয়া কোম্পানি খুলে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব ভুয়া কোম্পানির মালিক সাজানো হয়েছিল এস আলমের পিয়ন, দারোয়ান, গাড়িচালক ও কর্মচারীদের।

গণঅভ্যুত্থানের পর ব্যাংকটির ঘুরে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, অভ্যুত্থানের পর নতুন করে ২৬ হাজার কোটি টাকা আমানত রাখায় ব্যাংকটি কিছুটা প্রাণ ফিরে পায়। আমরা আশা করেছিলাম, নতুন সরকার বিদেশে পাচার হওয়া টাকাগুলো ফেরত আনার উদ্যোগ নেবে। কিন্তু তারা সেদিকে না গিয়ে ব্যাংকে এখন জনগণের যে টাকা আছে, তা কীভাবে লুটপাট করা যায় সে ব্যবস্থাই করছে।

বর্তমান চেয়ারম্যানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংকটিতে এখন যাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি একজন পরীক্ষিত দুর্নীতিবাজ এবং অর্থ আত্মসাৎকারী। এর আগে সততার ভিত্তিতে ব্যাংক পরিচালিত হতো, আর এখন এমন দুর্নীতিবাজ লোককে চেয়ারম্যান বানানো হয়েছে। এরা এস আলমের মতোই জনগণের বাকি টাকা লুট করে নিয়ে যাবে। এ কারণেই গ্রাহকদের মধ্যে বিরাট আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

তাহের প্রশ্ন তোলেন, কোন কারণে ব্যাংক ঘুরে দাঁড়ানোর সময় ভালো কাজ করা চেয়ারম্যান রহমান এবং এমডি ওমর ফারুককে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হলো, তা জাতির কাছে পরিষ্কার করা উচিত।

গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবহার করে এস আলম গ্রুপের ব্যাংক দখলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ডিজিএফআই ব্যবহার করে ডাকাতির মাধ্যমে জোর করে আগের মালিকদের সরিয়ে এস আলম ৮২ শতাংশ শেয়ার দখল করেছিল। আমাদের দাবি, ব্যাংকের অরিজিনাল (প্রকৃত) মালিকদের তাদের শেয়ার ফিরিয়ে দিতে হবে।

নতুন করে এস আলমের কোনো দোসরকে ব্যাংকে বসানোর চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকে আগের মতো সৎ লোকদের দায়িত্ব দিতে হবে। তা না হলে গ্রাহকরা ও ব্যাংকের শুভাকাঙ্ক্ষীরা আন্দোলন করবে এবং দেশে একটি বড় ধরনের অস্থিরতা (আনরেস্ট) তৈরি হবে।