ফেসবুকে এক অপরিচিত আইডি থেকে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে যে, একটি 'হালালা সেন্টার' খোলা হয়েছে। মানে, এটি হিল্লা বিয়ে করানোর এক প্রতিষ্ঠান। বিজ্ঞাপনে হিল্লা বিয়ে করতে আগ্রহী পুরুষদের কাছ থেকে সিভি আহ্বান করা হয়েছে। দেয়া হয়েছে একটি ইমেইল ঠিকানা।
তালকপ্রাপ্তা নারীদেরকে তাদের সাবেক স্বামীরা আবার ফিরিয়ে নিতে চাইলে ওই নারীর দ্বিতীয় আরেকটি বিয়ে হওয়ার পর ওখান থেকে তালাকপ্রাপ্তা হওয়া ছাড়া ইসলামসম্মতভাবে ফেরানোর সুযোগ নেই। যদিও এই দ্বিতীয় বিয়ে এবং তালাকের বিষয়গুলো স্বাভাবিক পন্থায় হওয়ার ধর্মীয় শর্ত রয়েছে। কিন্তু সুযোগসন্ধানী অনেকে পাতানো দ্বিতীয় বিয়ে এবং তালাকের আয়োজন করে থাকেন। এই ধরনের বিয়ে 'হিল্লা' বা 'হালালা' বিয়ে নামে পরিচিত।
ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে হুমড়ি খেয়ে পড়লেন বেশ কিছু পুরুষ। তাদের সংখ্যা বিজ্ঞাপনদাতার ভাষায় 'হাজার হাজার'। সঠিক সংখ্যা অবশ্য জানা যায়নি। এই পুরুষরা সবাই হিল্লা বিয়ের খায়েশ প্রকাশ করে সিভি পাঠালেন ওই ইমেইল ঠিকানায়। যদিও ইমেইল বার্তায় প্রায় সব পুরুষই শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তাদের এই সম্ভাব্য 'মুহাল্লিল' হওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে হবে। এরপর অপেক্ষার পালা। 'হালালা সেন্টার' থেকে কখন আসে কোন তালাকপ্রাপ্তা নারীকে পাতানো হিল্লা বিয়ে করার ডাক!
কিন্তু তাদের এই রোমাঞ্চকর অপেক্ষা হুট করে বিষাদময় হয়ে উঠলো বিজ্ঞাপনদাতা অপরিচিত ফেসবুক আইডিটির নতুন এক পোস্টে। 'প্রতারণা' করেছে আইডিটি! হিল্লা বিয়ের জন্য ডাক দেয়ার পরিবর্তে ফাঁস করে দিয়েছে 'গোপন রাখার শর্তে' পাঠানো অনেকগুলো সিভি এবং ইমেইল বার্তা! তাতে অনেকের নাম, মোবাইল নম্বর এমনকি ছবিও রয়েছে। আর এতেই বিপদে পড়েছেন মুহাল্লিল হতে চাওয়া এসব পুরুষ। এখন তাদের কেউ বলছেন, তাদের ইমেইল হ্যাক করে সিভি পাঠানো হয়েছে। কেউ বলছেন, তারা কিছুই জানেন না এ বিষয়ে। আবার কেউ এ বিষয়ক প্রশ্ন শুনে কেটে দিচ্ছেন ফোন!
ভুয়া ফেসবুক আইডি দিয়ে স্টিং অপারেশন
উপরের ঘটনাটি ঘটিয়েছে Sanzida Akter নামে একটি অপরিচিত ফেসবুক আইডি। আইডিটি থেকে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ছবি ব্যবহার করে হালালা বিয়ে বা হিল্লা বিয়ের জন্য ‘হালালা সেন্টার’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা চালানো হয়। উক্ত আইডি থেকে হালালা বিয়ে করতে আগ্রহী পাত্রদের সিভি পাঠাতেও বলা হয়। এই বিষয়ে গত ৮ জুন দ্য ডিসেন্টে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
এরপর ৮ জুন ওই ভুয়া আইডি থেকে করা একটি পোস্টে ‘হালালা বিয়ের জন্য আগ্রহী’ প্রার্থীদের করা ৮০টি ইমেইলের স্ক্রিনশট পোস্ট করে বলা হয়, “আমাদের হালালা সেন্টারে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য হাফেজ, আলেম, ইমাম, খতিব, মুফতি, মুহাদ্দিস, শাইখুল হাদিস, মাদরাসা শিক্ষক, মুয়াজ্জিন, আইনজীবী, ডাক্তার, ব্যবসায়ী, প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আবেদন এসেছে। আপনাদের পাঠানো হাজার হাজার ই-মেইল আমরা পেয়েছি। আপাতত আমাদের হালালা সেন্টারের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আপনাদের সিভি হাতে পেয়ে স্মারক হিসেবে মাত্র ৮০টি সিভি অনলাইনে প্রকাশ করছি।”
প্রকাশিত সিভিগুলো নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই মজা করে বিভিন্ন কমেন্ট করছেন। ওই পোস্টের কমেন্টবক্সে Ripat Hossain নামে একজন কমেন্ট করেছেন, “এমন নিখুঁত কট বাংলার ইতিহাসে প্রথম!”
Atik নামে একজন কমেন্ট করেছেন, “যদিও এটি ফেইক একটা আইডি, কিন্তু একটা জিনিস ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারলাম- মানুষ সুযোগ পাইলে সেটা কখনো হাতছাড়া করতে চায়না!”
Md Mostafizur Rahman Mostak নামে একজন কমেন্ট করেছেন, “মেসেজগুলো দেখে কি মনে হয়?
সবাই সুবিধাবাদী। একজন লোক বিবাহিত সেও মুহাল্লিল হতে চায়। কারন এটা পরিষ্কার সে জানে উপভোগ করার পরে ছেড়ে দেওয়ার পরিপূর্ণ অপশন আছে। আল্লাহর লা'নত এই বেহায়ার উপর।”
Mohammad Rafiul Islam নামে একজন কমেন্ট করেছেন, “এতদিনে বুঝলাম। আপনার কাজ ছিল, যাদের ভিতরে একটু কুরকুরানি আছে। বৈধ বা অবৈধভাবে কুরকুরানি মিটানোর সুযোগ পাচ্ছে না। তাদের কুরকুরানি ফাঁস করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন আপনি "হালালা" নামে।”
তবে এসব হাস্যরসাত্মক কমেন্টের ভিড়ে ভিন্ন কমেন্টও দেখা গেছে।
অনল প্রবাহ নামে একটি আইডি থেকে কমেন্ট করা হয়েছে, “এখানে যত মানুষের স্ক্রিনশট দেখছেন অনেকেই কিন্তু মজার চলে এরকম করেছে। আমার মনে হয় না বাস্তবে কেউ এটার জন্য দিয়েছে। আমি আমার বন্ধুসহ বসে একসাথে দুষ্টামি করে ওর সিভিটা দিছি, দেখি ওরা কি বলে এজন্য। কিন্তু ওরা যে এটা পেজে দিবে সেটা যদি বুঝতাম তাহলে কি আর দিতাম! আমরা বন্ধুরা চা খাওয়ার সময় আমি ইচ্ছে করিয়ে দিয়েছি সবার সামনে কথা বুঝছেন। আজকে থেকে সতর্ক আসলে মজার ছলে যে মানুষ বিপদে পড়ে এটাই বুঝতে পারলাম।”
এদিকে প্রকাশিত স্ক্রিনশটগুলোতে ‘আগ্রহী প্রার্থীদের’ সিভি ও ফোন নম্বরসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য উল্লেখ ছিল। ওই ব্যক্তিরা আসলেই তথাকথিত হালালা সেন্টারে সিভি পাঠিয়েছিলেন কিনা, তা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে স্ক্রিনশটে দৃশ্যমান সিভি ও ফোন নম্বরগুলোর মধ্য থেকে ১০টি নম্বরে যোগাযোগ করে দ্য ডিসেন্ট। এরমধ্যে ৪ জনের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও বাকি ৬ জনের সাথে কথা বলতে সক্ষম হয় দ্য ডিসেন্ট।
Sanzida Akter আইডিটির পোস্টের একটি স্ক্রিনশটে মিনহাজ মোস্তফা নামে একজনের সিভি দেখা যাচ্ছে। যে ইমেইল আইডি থেকে ইমেইলটি পাঠানো হয়েছে সেটির নামের শুরুতে ‘Minhaz’ দেখা যাচ্ছে। সিভিতে তার নম্বর দেয়া না থাকলেও দ্য ডিসেন্ট তার ফেসবুক আইডি খুঁজে বের করে সেখান থেকে তার নম্বর সংগ্রহ করে। তিনি হালালা সেন্টারে সিভি পাঠিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা কে বা কারা দিয়েছে আমি জানিনা। তবে আমি চাচ্ছি জিনিসটা আর আলোচনায় না আসুক। আমি আমার ফেসবুকে অলরেডি পোস্ট করেছি যে, এটার সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
আরেকটি স্ক্রিনশটে জুনাইদ আহমাদ নামে একজনের নম্বর দেখা যাচ্ছে। যে ইমেইল আইডি থেকে ইমেইলটি পাঠানো হয়েছে সেটির সাথে উক্ত ব্যক্তির নামের মিল রয়েছে।
ওই নম্বরে কল করা হলে তিনি বলেন, “এটা ভুল নাম্বার। ওখানে ভুল নাম্বার দেওয়া হইছে।”
তার নাম কী জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে কলটি কেটে দেন।
আরেকটি স্ক্রিনশটে ইঞ্জিনিয়ার হুসাইন আল আজাদ নামের একজনের সিভি দেখা যায়। পাঠানো ইমেইল আইডিটির নামের প্রথমে ‘Hossain’ লেখা দেখা যায়। সিভিতে তার ফোন নম্বর উল্লেখ করা না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে তার ফেসবুক আইডি খুঁজে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার নম্বর সংগ্রহ করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "হালালা সেন্টার নামে একটি বিষয় আমার নজরে এসেছে। এই কার্যক্রমের সাথে আমার কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নেই। হঠাৎ করে গতকাল দেখতে পাই, আমার ব্যক্তিগত সিভি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি দেখে আমি বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন হই।"
তিনি আরও জানান, “পরবর্তীতে বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য সংশ্লিষ্ট সানজিদা আক্তারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে সক্ষম হইনি, এমনকি মেসেজ পাঠানোর সুযোগও ছিল না। ওই আইডি পর্যালোচনা করে দেখতে পাই, 'হালালা সেন্টার' নামে বিয়ে সংক্রান্ত একটি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে আমার তথ্য সেখানে কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, কে বা কারা প্রকাশ করেছে এবং কী উদ্দেশ্যে করেছে, সে বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞ।"
পোস্টটির আরকটি স্ক্রিনশটে হাফেজ মাওলানা আবরারুল হক নামে একজনের ফোন নম্বর দৃশ্যমান। তবে পাঠানো ইমেইল আইডির নামের প্রথমে ‘Hassan’ দৃশ্যমান। ওই নম্বরে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ না করে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেন। তিনি আবরারুল হক কিনা কিংবা তিনি হালালা সেন্টারে মুহাল্লিল হওয়ার জন্য সিভি দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি বলেন, “আসলে গতকালকের একটা ঘটনা নিয়ে আমি বেশ বিব্রতবোধ করছি। কে বা কারা যেন আমার নাম্বার শেয়ার করে হালালার জন্য সিভি দিয়েছে। সেজন্য গতকাল থেকে অনেক বেশি হ্যারাসমেন্টের শিকার হচ্ছি। আমি বাধ্য হয়ে আমার সীম অফ করে রেখেছি।”
তিনি আরো বলেন, “আমার নাম আবরার না। আর আমি একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট। কোন ধরনের পেশায় নিযুক্ত না। আমার এ ধরনের কোন ইন্টারেস্ট নেই। আমার নাম্বার শেয়ার দেওয়া ইমেইলটা সম্পূর্ণ ফেইক এন্ড ফলস। রেপুটেশন খারাপ হওয়ার ভয়ে এটা নিয়ে কোন স্টেপ ও নিতে পারছি না।”
একটি ইমেইলের স্ক্রিনশটে মাওলানা মাহাদী হাসান নামে আরেকজনের নম্বর দেখা যাচ্ছে। এই স্ক্রিনশটে ইমেইল আইডিটি দৃশ্যমান নয়। দৃশ্যমান ফোন নম্বরে কল করা হলে তিনি জানান, তিনি ঈদের ছুটিতে গ্রামে আছেন এবং গতকাল সন্ধ্যা থেকে তিনি তার নম্বরে অনবরত গালাগালি ও মানহানিকর ফোন পেতে থাকেন। পরে এক ব্যক্তির মাধ্যমে জানতে পারেন, 'সানজিদা আক্তার' নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার নম্বরটি ছড়ানো হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর ফোনে অস্বাভাবিক ভেরিফিকেশন কোড আসা ও ফোনটি বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এক বন্ধুর সহায়তায় তিনি জানতে পারেন—তার জিমেইল হ্যাক করে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং 'মুক্তা বাসাবো' ও 'নাদিয়া আফরিন' নামের দুইটি আইডি থেকে তার ফোনটি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
ওই ইমেইলটি পাঠানোর কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “না না ভাই। ওয়াল্লাহি ওয়াল্লাহি এই মেইলটা আমি করি নাই। আল্লাহর কসম এই মেইলটা আমি করি নাই ভাই। আমার জিমেইল কেমনে কী আমি তো এতো কিছু বুঝি না। আমার ফ্রেন্ডরা আমারে রাগারাগি করতেছে যে তোর জিমেইল দুইদিন আগে দুই জায়গায় লগইন হইছে তুই এগুলার নোটিফিকেশন পাস নাই? আমি তো এগুলা এতো কিছু বুঝি না। আমি ফোন চালাই কতোটুকু, পড়াশোনা করছি মাদ্রাসাতে। আমরা হয়তো ফোন টিপি আসরের পরে। এতো কিছু কি আমরা বুঝি যে জিমেইলে লগইন হইছে।”
একটি স্ক্রিনশটে হাফেজ মাওলানা মো: ওমর সানি নামে আরেকজনের নম্বর দেখা যাচ্ছে। এই স্ক্রিনশটে ইমেইলটি কোন আইডি থেকে পাঠানো হয়েছে সেটি দৃশ্যমান নয়। ওই নম্বরে কল করা হলে তিনি জানান, তিনি সানজিদা আক্তার কিংবা হালালা সেন্টার সম্পর্কে কিছু জানতেন না। গতকালকে তার পরিচিতরা তার সিভিটি ভাইরাল হওয়ার বিষয়ে জানালে তিনি প্রথম এই সম্পর্কে অবগত হন।
এছাড়াও তিনি জানান, তার নম্বরে প্রচুর কল আসছে। অনেকেই গালাগালি করছেন তাকে। এটা নিয়ে তিনি খুবই বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, তার ফেসবুক আইডিতে তার ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য দেয়া আছে। তার পরিচিত কেউ বা বন্ধুবান্ধব দুষ্টুমি করে এটি পাঠিয়ে থাকতে পারেন। এছাড়াও তিনি চাকরির জন্য বিভিন্ন জায়গায় সিভি দিয়েছেন। সেখান থেকেও কেউ তথ্য নিয়ে এই কাজ করে থাকতে পারেন বলে তিনি মনে করছেন।
এদিকে ৮ জুন রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে Sanzida Akter নামে ওই আইডি থেকে করা একটি পোস্টে বলা হয়, “বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশ আমাকে গ্ৰেফতার করছে। বর্তমানে আমি উত্তরা থানাতে আছি। আল্লাহ সহায় হোন।”
গ্রেফতারের বিষয়টি যাচাই করলে দেখা যায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অধীনে এককভাবে "উত্তরা থানা" নামে কোনো থানা নেই। এলাকাটিকে মূলত দুটি থানায় বিভক্ত করা হয়েছে: উত্তরা পূর্ব থানা এবং উত্তরা পশ্চিম থানা।
উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোর্শেদ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সানজিদা আক্তার বা হালালা সেন্টারের সাথে সম্পৃক্ত এমন কোনো নারী বা পুরুষকে আটক করা হয়নি বলে জানান।
এছাড়াও উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ খালেদ মনসুরও এখন পর্যন্ত এমন অভিযোগে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানান।
উল্লেখ্য, ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়ার পর তারা যদি আবার নিজেদের মধ্যে বিয়ে করতে চান তবে তার পূর্বে ওই স্ত্রীকে অন্য কোনো পুরুষের সাথে স্বাভাবিক নিয়মে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে হয় এবং সেই স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ বা তার মৃত্যু ঘটতে হয়। পুনরায় প্রথম স্বামীর জন্য স্ত্রী বৈধ হওয়ার এই পুরো প্রক্রিয়াকে হিল্লা বিয়ে বা হালালা বিয়ে বলা হয়।
তবে বাংলাদেশে পাতানো হিল্লা বিয়ের প্রচলন রয়েছে; যেখানে তালাকপ্রাপ্তাকে ফিরিয়ে নিতে চুক্তির ভিত্তিতে অন্য কোন পুরুষের সাথে স্বল্প সময়ের জন্য বিয়ে দেয়া হয় এবং চুক্তি মতো আবার তালাকও নেয়া হয়। এরপর পূর্বের স্বামীর সাথে পুনরায় বিয়ে দেয়া হয়।
প্রচলিত এই ধরনের হিল্লা বিয়ে সম্পর্কে ইসলামের বিধান জানতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এএসএম তরিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হিল্লা বিয়ে একটি হারাম কাজ। এমন বিয়ে ইসলামে জায়েজ নাই।”