সিলেটে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক চিকিৎসক ও তার পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিকেলের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. আজিজুর রহমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালি মডেল থানাধীন সোনাতলা সবুজ-১ এলাকার বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, হামলায় অধ্যাপক ডা. আজিজুর রহমান, তার বড় ভাই মোবারক হোসেন ফাত্তাহ এবং ভাবি দেওয়ান মমুনুন হাছান গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় দেওয়ান মমুনুন হাছান বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- সোনাতলা রায়নগর এলাকার মৃত ইউসুফ মিয়ার ছেলে ও ১৮নং ওয়ার্ডের বেলাল আহমদ ওরফে গুল্লি বেলাল (৫০), তার ছেলে রাইয়ান (১৯), পূর্ব শাহী ঈদগাহ এলাকার ওসমান মিয়ার দুই ছেলে লায়েক আহমদ (৪৫) ও সায়েম আহমদ (৩৫), মেয়ে পান্না বেগম (৩৭) এবং স্ত্রী লুৎফা বেগম (৫৮)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা বিগত সরকারের দোসর ও চিহ্নিত চাঁদাবাজ। কয়েক বছর আগে অধ্যাপক ডা. আজিজুর রহমান ওই এলাকায় ১৭ শতক জমি ক্রয় করার পর থেকেই আসামিরা তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত ৬ জুন দুপুরে বেলাল, রাইয়ান ও লায়েক তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
পরদিন রোববার সন্ধ্যায় অধ্যাপক ডা. আজিজ নামাজ আদায় শেষে চেম্বারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়ি নিয়ে বের হলে বাসার গেটের সামনে আসামিরা ছুরি, কিরিচ, রামদা, লোহার রড ও পাইপ নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে বাঁচাতে তার বড় ভাই মোবারক হোসেন ফাত্তাহ এগিয়ে এলে তাকেও রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। বর্তমানে তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলায় বাদী দেওয়ান মমুনুন হাছানও রডের আঘাতে আহত হন।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাঈনুল জাকির মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।