আবারও ইসলামী ব্যাংকে দখলকারী চক্রের দৃষ্টি পড়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট) তৃতীয় দিন ৬৮ বিধিতে দেওয়া নোটিশ উত্থাপন করার সময় এ কথা জানান।
শফিকুর রহমান ৬৮ বিধিতে দাঁড়িয়ে বলেন, যেহেতু ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক। দেশের মোট রেমিট্যান্সের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আসে। যেহেতু তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের অব্যাহত অপপ্রচার এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের রাজনৈতিক হয়রানি সত্ত্বেও ২০১৬ সালে ব্যাংকটি ৪৪৭ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা অর্জন করে। সে সময় খেলাপি বিনিয়োগের হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ।
শফিকুর রহমান আরো বলেন, এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের মুনাফা ১০৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৩৭ কোটিতে উন্নীত হয়। ঠিক এমন সময় আবারও পুরো ব্যাংক দখলকারী চক্রের দৃষ্টি ব্যাংকটির দিকে পড়েছে। নতুন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে বিতর্কিত এবং দুর্নীতির অভিযোগে চিহ্নিত ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনায় ও যৌক্তিক ও অন্যায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালক…।
এ সময় স্পিকার বলেন, বিরোধী দলের নেতা আপনি তো পরে আবার বলতে পারবেন।
বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের দেওয়া লিখিত নোটিশের বাকি অংশে উল্লেখ করা হয়, একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনায় অযৌক্তিক ও অন্যায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পদত্যাগে বাধা করা হয়েছে।
যেহেতু, ব্যাংকটিকে ‘জামায়াতের প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনমনে এ ধরনের ধারণা যে একেবারেই নেই, তা বলা যাবে না। তবে একই সঙ্গে এটিও অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই যে, যেই ব্যবস্থাপনাকে ‘জামায়াতপন্থী’ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, সেই ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা রেখেই দেশের লাখো গ্রাহক ব্যাংকটিতে বিপুল পরিমাণ আমানত রেখেছিলেন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেছিলেন। সেই ব্যবস্থাপনাও সততা, দক্ষতা ও পেশাদারির মাধ্যমে এই আস্থার প্রতিদান দিয়েছে এবং ইসলামী ব্যাংককে বিশ্বের অন্যতম সফল ও মর্যাদাপূর্ণ ইসলামী ব্যাংকে পরিণত করেছে।
যেহেতু, অতীতে জামায়াতি ব্যবস্থাপনার অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যেভাবে ব্যাংকটি দখল করা হয়েছিল এবং যার পরিণতিতে ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে ব্যাংক ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, আজ আবারও একই কৌশলে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের চেষ্টা চলছে। এর ফল যে ব্যাংক, গ্রাহক কিংবা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে না, তার প্রমাণ ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। একদিনেই গ্রাহকরা প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা আমানত প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, যা আস্থার সংকটের স্পষ্ট প্রতিফলন।
সেহেতু, দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারসমূহ বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের অন্যায়, অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রাখার স্বার্থে বিষয়টি কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে এই সংসদে অবিলম্বে আলোচনা করা একান্ত প্রয়োজনীয়।