যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর অর্থায়ন নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রাক-ডেলিভারি পেমেন্ট (PDP) বাবদ প্রায় ৯ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) জোগাড়ে আন্তর্জাতিক ঋণ সহায়তার পথ খুঁজছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
গত ৩০ এপ্রিল বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে আটটি 787-10, দুটি 787-9 এবং চারটি 737-8 উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে মোট দামের ১ শতাংশ সাইনিং মানির মধ্যে ০ দশমিক ৫ শতাংশ ৫ মে পরিশোধ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ০ দশমিক ৫ শতাংশ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধের কথা। এসব এয়ারক্রাফট আনতে বিমানকে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা গুনতে হবে।
চুক্তির পরপরই অর্থায়ন কৌশল নির্ধারণে ৭ মে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘অর্থায়ন কমিটি’ গঠন করেছে বিমান। এই কমিটি দেশি-বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে অর্থায়নের কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ করছে। বিমানের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারির আগে ধাপে ধাপে প্রাক-ডেলিভারি পেমেন্ট (PDP) বাবদ মোট ৯৬৫ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) পরিশোধ করতে হবে, যা ৯৮টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এ অর্থায়নের পথ খুঁজতে গত ১ জুন বিমান যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক (US EXIM)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড আর. ফিউরোর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে লং-টার্ম নাকি চার বছরমেয়াদি স্ট্যান্ড-অ্যালোন পিডিপি ফাইন্যান্সিং— কোন কাঠামোতে কত শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা পাওয়া যেতে পারে, এক্সপোজার ফি কীভাবে নির্ধারিত হবে, ঋণের সুদ-আসল পরিশোধের সময়সূচি এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
অর্থায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকারের সার্বভৌম গ্যারান্টি পাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সম্মতি, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনসহ প্রায় ১৫ ধাপের একটি সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রবাহ তৈরি করেছে বিমান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত বড় অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় সুদ, মুদ্রা বিনিময় হার এবং দীর্ঘমেয়াদি দায়— সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উড়োজাহাজ অর্থায়নের খরচ কমাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কেপ টাউন কনভেনশন ও এয়ারক্রাফট প্রোটোকল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিমান। এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন পরিচালক আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘বহর সম্প্রসারণ বিমানের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ। অর্থায়নের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সবদিক বিবেচনা করে একটি টেকসই ও ব্যয়-সাশ্রয়ী অর্থায়ন কাঠামো নিশ্চিত করেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’
এভিয়েশন বিশ্লেষক ওয়াহিদুল আলম বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর অর্থায়নই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। কারণ সময়মতো পিডিপি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ডেলিভারি সময়সূচি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক চাপও তৈরি হতে পারে।