Image description

বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে পেট্রোবাংলা। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ‘মডেল পিএসসি ২০২৬’-এ গ্যাসের দাম বাড়ানোসহ নানা ছাড় ও সুবিধা দিচ্ছে সরকার।

আজ রোববার (২৪ মে) পেট্রোবাংলা অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এতে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দরপত্র জমার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিশ্বের নামিদামি ৫৫টি কোম্পানিকে সরাসরি ই-মেইল করে এই দরপত্রে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য এর আগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে দরপত্র ডাকা হয়েছিল। আগস্টে পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন সরকার দরপত্র জমার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ায়। পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, ওই সময় সাতটি বিদেশি কোম্পানি দরপত্রের নথিপত্র কিনলেও শেষ পর্যন্ত কেউ তা জমা দেয়নি।

পরবর্তীতে ওই কোম্পানিগুলোর অনাগ্রহের কারণ বিশ্লেষণ করে পিএসসিতে সংশোধনী আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ মে নতুন পিএসসি প্রকাশ করে সরকার।

২৬ ব্লকে দরপত্র, সময় ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত

দরপত্র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের মোট ২৬টি ব্লকের জন্য এই দরপত্র ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্রের এবং ১৫টি গভীর সমুদ্রের ব্লক। আগামী ১ জুন থেকে আগ্রহী কোম্পানিগুলো সাত হাজার মার্কিন ডলার মূল্যে দরপত্রের মূল নথি বা প্রমোশনাল প্যাকেজ কিনতে পারবে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় বেলা ১টা পর্যন্ত। ওই দিন বেলা ২টায় সবার উপস্থিতিতে দরপত্র উন্মুক্ত করা হবে। সাগরের নিচে খনিজ সম্পদের প্রাথমিক ধারণা পেতে কোম্পানিগুলোর জন্য ‘মাল্টি-ক্লায়েন্ট সিসমিক ডেটা’ বা ভূতাত্ত্বিক জরিপের তথ্য কেনার সুযোগও রাখা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, আগের পিএসসিতে গ্যাসের দাম কম থাকায় বিদেশি কোম্পানিগুলোর অনাগ্রহ ছিল। নতুন পিএসসিতে গ্যাসের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) মো. শোয়েব বলেন, বিদেশি কোম্পানিকে আকৃষ্ট করতে পিএসসি প্রস্তুত করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে যে এবার অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ভালো সাড়া পাওয়া যাবে।

সমুদ্র থেকে মূল ভূখণ্ডে গ্যাস আনতে পাইপলাইন নির্মাণের বিপুল খরচের বিষয়টি মাথায় রেখে এবার নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাইপলাইন বসালে গ্যাস ক্রেতার কাছ থেকে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে একটি ‘পাইপলাইন ট্যারিফ’ বা মাসুল পাবে।

বড় একটি ছাড় দেওয়া হয়েছে কূপ খননের ঝুঁকির ক্ষেত্রে। কোনো কোম্পানি প্রথম অনুসন্ধান কূপ খনন করে গ্যাস না পেলে যদি দ্বিতীয় কূপ খননের ঝুঁকি নেয়, তবে ঠিকাদারের মুনাফার অংশ ১ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। আর প্রথম দুটি কূপ ব্যর্থ হওয়ার পর তৃতীয় বা তার বেশি কূপ খনন করলে মুনাফার অংশ ২ শতাংশ বাড়বে।

আগের মতো এবারও কোনো ‘সিগনেচার বোনাস’ বা ‘রয়্যালটি’ দিতে হবে না। বিদেশি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে নেওয়ার (কস্ট রিকভারি) সীমা বছরে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ঠিকাদারের করপোরেট আয়করের দায়ভার পেট্রোবাংলা বহন করবে এবং যন্ত্রাংশ আমদানিতে কোনো শুল্ক দিতে হবে না।

পিএসসিতে বলা হয়েছে, ঠিকাদারের উত্তোলিত গ্যাস পেট্রোবাংলা প্রথম কেনার অধিকার রাখবে। তবে পেট্রোবাংলা না কিনলে ঠিকাদার চাইলে দেশের ভেতরে তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রি করতে পারবে। দেশের ভেতরে চাহিদা না থাকলে পেট্রোবাংলার সম্মতি সাপেক্ষে বিদেশেও গ্যাস রপ্তানি করার সুযোগ পাবে বিদেশি কোম্পানি।

অগভীর সমুদ্রের ব্লকগুলোতে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্সের ১০ শতাংশ ‘ক্যারিড ইন্টারেস্ট’ থাকবে। অর্থাৎ বাপেক্স কোনো অর্থ বিনিয়োগ না করেই ১০ শতাংশের অংশীদার হবে এবং ওই খরচের জোগান দেবে বিদেশি কোম্পানি। তবে গভীর সমুদ্রের ব্লকে বাপেক্সের কোনো অংশীদারত্ব থাকছে না।

দরপত্রে অংশ নিতে হলে কোম্পানিগুলোকে আর্থিক ও কারিগরিভাবে যথেষ্ট যোগ্য হতে হবে। অগভীর সমুদ্রে কাজের জন্য ঠিকাদারকে দৈনিক ন্যূনতম ৫ হাজার ব্যারেল তেল অথবা ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। গভীর সমুদ্রের ক্ষেত্রে এই শর্ত দৈনিক ন্যূনতম ১০ হাজার ব্যারেল তেল অথবা ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। পাশাপাশি নিজ দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক।