Image description

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। 

রোববার (২৪ মে) কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ব্যাংকটির এমডি ও চেয়ারম্যান দুজনেই পদত্যাগ করেছেন।

এর মধ্যে এমডিকে ‌পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং চেয়ারম্যান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।   

 

তাছাড়া এই দিন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই সভা হয়নি।

 

জানা গেছে, দুপুরের আগেই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন ব্যাংকে যান। তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে এমন একটা গুঞ্জন ছিল।

একারণে ব্যাংকটির একদল কর্মকর্তা রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে। তবে শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে যান ওমর ফারুক খাঁন।
 

 

এদিকে বিকেলে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানও পদত্যাগ করেছেন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

ওমর ফারুক খাঁন জানান, চেয়ারম্যানের অব্যাহত চাপের মুখে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছেন। এটি ব্যাংকের পর্ষদে ওঠার কথা। কিন্তু পর্ষদের সভা না হওয়া এবং চেয়ারম্যান পদত্যাগ করায় আবেদনের বিষয়টি অনুমোদন হয়নি।

এদিকে ব্যাংকটিতে হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার সকালে মতিঝিলে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম। সকাল সাড়ে ১০টায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা ব্যাংক পরিচালনা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান।

এর আগে গত ১২ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খাঁনকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। ওইদিন ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এমডিকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর ওমর ফারুক খাঁনের অনুপস্থিতিতে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) মো. আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। 
সেসময় জানানো হয় ওমর ফারুক খাঁন ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি নিয়েছেন। 
তবে ২৫ মে থেকে কোরবানীর ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় ২৪ মে শেষ কর্মদিবস হিসেবে ব্যাংকে আসেন ওমর ফারুক খাঁন। কিন্তু অব্যাহত চাপের মুখে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

পদত্যাগের বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাতে সাড়া দেননি। পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও তার কোনো জবাব দেননি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকটিতে নিয়োগ পাওয়া তৎকালীন এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় ২০২৫ সালের মে মাসে তাকে অপসারণ করা হয়। পরে ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে ওমর ফারুক খাঁনকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

সার্বিক বিষয়ে জানতে ইসলামী ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (এসএভিপি) মো. সুলতান উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও তাতে সাড়া দেননি।