আপত্তিকর অবস্থায় আটকের পর বহিষ্কার হলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিফ রহমান।
রোববার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল শনিবার রাত ১২টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার জে এম টাওয়ার সংলগ্ন একটি বাসা থেকে বান্ধবীসহ আপত্তিকর অবস্থা আটক হন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার চাকসুর উদ্যোগে পর্দাশীল নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ক্যান্টিনে ‘ছাত্রী কর্নার’ চালু করা হলে তা নিয়ে ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেন তিনি। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে পড়েন।
এদিকে আটকের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে একটি ফেসবুক পেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও এক ছাত্রীর নাম জুড়ে দেওয়া হয়। নাম জুড়ে দেওয়া ওই ছাত্রী কয়মাস আগে শাখা ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। পরে আব্দুল্লাহ আল মামুন ফেসবুক লাইভে এসে জানান তিনি গত শুক্রবার সিরাজগঞ্জে গ্রামের বাসাতে এসেছেন।
জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিফ রহমান আমার দেশকে বলেন, আমার বান্ধবী গ্রামের বাসায় যাওয়ার জন্য সকাল ৬টার টিকিট কেটেছিল। আমরা ৪-৫ জন বন্ধু মিলে রাতে ক্যাম্পাসে ঘোরার পরিকল্পনা করি। রাতের দিকে ১ নম্বর গেট এলাকায় খাওয়া-দাওয়া শেষে বাসায় ফেরার সময় জানতে পারি স্টেশন তলায় ঝামেলা হচ্ছে। তাই আমরা ২ নম্বর গেট দিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
তিনি বলেন, পরে রাত প্রায় ১২টার দিকে আমি ব্যাগ নেওয়ার জন্য রুমে যাই। তখন আমার বান্ধবীকে নিচে একা রেখে যাওয়াটা নিরাপদ মনে হয়নি। তাই তাকে রুমে নিয়ে আসি, যেন আমি দ্রুত গোসল করে ব্যাগ নিয়ে বের হতে পারি। কিন্তু পরে কিছু মানুষ দরজা ভেঙে রুমে ঢুকে পড়ে এবং পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। অথচ আমরা কোনো আপত্তিকর অবস্থায় ছিলাম না।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. কামরুল হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়ে ওই বাসায় যেয়ে ওদেরকে ক্যাম্পাস এরিয়ার মধ্যে নিয়ে আসি। পরে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটির পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।