Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) জানিয়েছে, চীন কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা পেয়েছেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

 

রোববার (২৪ মে) দুপুর ১২টার দিকে চীন সফর শেষে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ এর মিডিয়া কর্ণারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

 

চীন সফরের বিভিন্ন অর্জন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পরিকল্পনা তুলে ধরেন সাদিক কায়েম জানান, সফরের সময় তারা দেশটির বিভিন্ন প্রযুক্তি শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও থিংক ট্যাংক পরিদর্শন করেছেন। বিশেষ করে দেশিটির প্রযুক্তি শিল্প কীভাবে পরিচালিত হয় এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কীভাবে তারা এগিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা পেয়েছেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

 

তিনি বলেন, প্রতিনিধিদল চীনের শীর্ষ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় পিকিং ইউনিভার্সিটি, সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি এবং বেইহাং ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেছে।

 

পিকিং ইউনিভার্সিটিতে থাকা বাংলা ভাষা ও গবেষণা কেন্দ্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে ডাকসুর পক্ষ থেকে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে জানিয়ে ডাকসু ভিপি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনের সহায়তায় পরিচালিত কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও চাইনিজ রিসার্চ সেন্টারের কার্যক্রমেও যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

সাদিক কায়েম জানান, সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির ছাত্র সংসদের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা ও বেইজিংয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ইয়ুথ ফেলোশিপ’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে ডাকসু। এই ফেলোশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থী বিনিময়, স্কলারশিপ এবং গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক যুব সংলাপ ‘গ্লোবাল ইয়ুথ ডায়ালগ’-এ ডাকসুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যেখানে বিশ্বের প্রায় ১২০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি জুলাই মাসে ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও চীনা প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তারা এতে অংশ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

 

বেইহাং ইউনিভার্সিটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামেও অংশ নেয় প্রতিনিধি দল। ভবিষ্যতে এই ধরনের যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের আশা প্রকাশ করেন ডাকসু ভিপি।

 

চীনের নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, বেইজিংয়ের স্মার্ট সিটি ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিচ্ছন্ন নগর পরিচালনা ব্যবস্থা তাদেরকে মুগ্ধ করেছে।

 

একইভাবে সাংহাই শহরের নদীকেন্দ্রিক নগর পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীকেও কেন্দ্র করে ঢাকায় আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

 

সফরে প্রতিনিধি দল সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এ বৈঠক করেছে। সেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, বঙ্গীয় ভূরাজনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

সাদিক কায়েম আরও বলেন, আমরা চীনের কাছে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা তুলে ধরেছি। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও নগর পরিকল্পনায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেছি।

 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং দুই দেশের তরুণদের মধ্যে জ্ঞান, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়বে।