রংপুরের পীরগঞ্জে গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থ ও শ্রমে নির্মিত একটি কালভার্টে হঠাৎ করেই সরকারি প্রকল্পের নামফলক লাগানোকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের উদ্যোগে নির্মিত অবকাঠামোকে সরকারি প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের পীরগঞ্জের প্রত্যন্ত পল্লির টুকুরিয়া ইউনিয়নের গোপীনাথপুরে প্রায় দুিই বছর আগে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মাঝখানে কালভার্টটি নির্মাণ করেন।
তবে সম্প্রতি ওই কালভার্টে একটি সরকারি প্রকল্পের নামফলক স্থাপন করা হলে শুরু হয় বিতর্ক। নামফলকে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি সরকারি বরাদ্দে নির্মিত একটি প্রকল্প। বিষয়টি জানাজানি হলে চেয়ারম্যান সমর্থক এবং গ্রামবাসীর মাঝে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিজেদের অর্থ ও শ্রমে নির্মিত কালভার্টকে সরকারি প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান মণ্ডল। তিনি বিএনপিকে ম্যানেজ করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় ইউনিয়ন পরিষদে আসা সরকারি বরাদ্দ ও জনগণের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত ব্রিজ-কালভার্টগুলো প্রকল্পের নাম দেখিয়ে আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করছেন।
গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মিয়া বলেন, ‘আমরা নিজেরা অর্থ সংগ্রহ করে কালভার্ট বানিয়েছি। এখন দেখি এখানে সরকারি প্রকল্পের নামফলক লাগানো হয়েছে। এটা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা।’ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করলে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি জানান।
আরেক বাসিন্দা নুর বানু বেগম বলেন, ‘দিনের বেলায় নয়, রাতের আঁধারে নামফলক লাগানো হয়েছে। আমরা এর সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো অনেক গ্রামবাসী একই অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, চেয়ারম্যানের প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আতাউর রহমান মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান। তার নিজস্ব বাহিনীর ভয়ে অনেকে কথা বলতে চান না। তার বিরুদ্ধে শত শত প্রকল্পে অনিয়মসহ নানা দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ রয়েছে ইউএনও, ডিসিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মণ্ডল বলেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ‘উন্নয়ন সহায়তা তহবিল’ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকায় কালভার্টটি নির্মাণ করেছে টুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ। চব্বিশের আগস্টের পট পরিবর্তনের পর থেকে একটি মহল আমাকে ফাঁসাতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পপি খাতুন জানান, উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে আগে বরাদ্দ দেওয়া হতো, যা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগ মনিটরিং করত। বর্তমানে এই নামে কোনো প্রকল্প চালু নেই। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।