Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন সংসদে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। 

নাহিদের বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা ‍মিতু বলেন, সংসদে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য শুনছিলাম চোখ বেয়ে অঝোরে পানি ঝরছিল। ওরা ছাড়া আর কে-ই বা এভাবে জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখবে?

পোস্টের কমেন্টে মিতু আরও লেখেন, আল্লাহ নাহিদ, হাসনাত, সার্জিস, আখতার, হান্নানসহ আমার সকল জুলাইয়ের অকুতোভয় ভাইদের নেক হায়াত দান করুন। দীর্ঘ হায়াত দান করুন।

এরআগে সংসদে নাহিদ তার বক্তব্যের শুরুতে স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং জুলাই যোদ্ধাদের উপর আনিত শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনা করার সুযোগ দেবার জন্য। এরপর তিনি শ্রদ্ধা জানান জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত ও পঙ্গু জুলাই যোদ্ধাদের।  

এছাড়াও তিনি তার বক্তব্যে স্মরণ করেন, পিলখানা হত্যাকান্ডে শহীদ, শাপলা হত্যাকান্ডে শহীদ, ফ্যাসিস্ট আমলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের, ১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ছাত্র কিশোরদের, শরিফ ওসমান হাদি, আবরার ফাহাদ, শহীদ ফেলানী খাতুন, চব্বিশের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসিম, চার বছরের শিশু আহাদ, ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপসহ প্রায় ১৫০ শিশু, শহীদ ইয়ামিন, কিশোর শহীদ সজলকে।

এসময় শহীদ আনাসের চিঠির অংশ বিশেষ পাঠ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, স্মরণ করিয়ে দিতে চাই মাকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠি দশম শ্রেণীর ছাত্র শহীদ আনাসকে। যিনি বলেছিলেন, ‘একটি প্রতিবন্ধী কিশোর, সাত বছরের বাচ্চা, ল্যাংড়া মানুষ যদি সংগ্রামে নামতে পারে তাহলে আমি কেন বসে থাকবো ঘরে, একদিন তো মরতেই হবে। তাই মৃত্যুর ভয় করে স্বার্থপরের মত ঘরে বসে না থেকে, সংগ্রামে নেমে গুলি খেয়ে বীরের মত মৃত্যু অধিক শ্রেষ্ঠ। যে অন্যের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দেয় সেই প্রকৃত মানুষ, আমি যদি বেঁচে না ফিরি তবে কষ্ট পেও না, গর্বিত হয়েও জীবনের প্রতিটি ভুলের জন্য ক্ষমা চাই’- আনাস তার মাকে চিঠি লিখে রাস্তায় নেমে গিয়েছিলেন শহীদ হয়েছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাথে জড়িয়ে আছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম ও তার আত্মত্যাগ। উনার সংগ্রাম অনুপ্রাণিত করেছিল বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে আত্মত্যাগ করতে, আত্মহতি দিতে।