Image description

দখলদার ইসরাইলের সেনাবাহিনীতে মানসিক সংকট বিস্তারের কথা জানিয়েছে দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরনোত।

ইসরাইলের দৈনিকটি মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে লিখেছে, সম্প্রতি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসা ১৭০,০০০ ইসরাইলি সৈন্য মানসিক রোগের চিকিৎসা নেয়ার জন্য ইসরাইলের যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের চিকিৎসা বিভাগে নাম নিবন্ধন করেছে। 

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, অনেক ইসরাইলি রিজার্ভ সৈন্য যারা কয়েক মাস ধরে যুদ্ধে লিপ্ত, তারা মানসিক চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে ইসরাইলে এই মুহূর্তে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। এতে সৈন্যদের মানসিক সংকট বর্তমানে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সাইয়্যেদ আলা মুসাভি মনে করেন, ইসরাইল এখন অভ্যন্তরীণ সংকট, সামরিক পরাজয় এবং সরকার পতনের মুখোমুখি।

ইসরাইলি সামরিক বিশ্লেষক আমির বোহবুতও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রাক্কালে ইসরাইলি সেনা কমান্ডারদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টির কথা জানিয়েছেন। 

আমির বোহবুত বলেন, সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তদন্তের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে এবং নতুন চিফ অফ স্টাফ এবং ইসরাইলি জেনারেলদের মধ্যে অবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ‘অস্তিত্বের সংকট’ হলো আরেকটি শব্দ, যা একজন ইসরাইলি সামরিক বিশেষজ্ঞ ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ক্রমবর্ধমান শক্তি সম্পর্কে তার বিশ্লেষণে ব্যবহার করেছেন। 

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ এবং সাবেক ইসরাইলি জেনারেল ইয়ায়ের গোলান বলেছেন, হামাস এখনো গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করছে। 

তার ভাষায়, ‘ইসরাইল তার ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর অস্তিত্বগত সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। কেবল বহিরাগত হুমকির কারণে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ ভাঙন এবং বিরোধের কারণেও অস্তিত্বগত সংকটের মুখোমুখি হয়েছে’।

এদিকে ইসরাইলের মিডিয়া ব্যর্থতার সংকটও এমন একটি বিষয় যা আজকাল ইসরাইলি বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করছেন। 

এ প্রসঙ্গে ইসরাইল সরকারের সাবেক মুখপাত্র এলন লেভি এক বিশ্লেষণে বলেছেন, ইসরাইলি শাসনব্যবস্থা সবসময় সম্প্রসারণবাদী লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে জনমতকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার জন্য মিডিয়াকে ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু আল আকসা তুফান অভিযান ইসরাইলি আগ্রাসনের পথে বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলন লেভির মতে, গাজা যুদ্ধে বিশ্ব জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর ব্যাপক প্রচেষ্টা এবং এই অঞ্চলে ইসরাইলি মিডিয়া সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করা সত্ত্বেও তারা সামরিক যুদ্ধে পরাজয় এবং লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার পাশাপাশি মিডিয়া যুদ্ধেও পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে এবং গাজায় তাদের অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো আড়াল করতে পারেনি।