Image description

ভারতের উত্তর প্রদেশের শামলিতে ৩০ বছর বয়সী যুবক আয়ুশ মালিক হিন্দু ধর্ম থেকে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। জোরপূর্বক ধর্মান্তর বা প্রতারণার অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কারও কোনো প্ররোচনা ছাড়াই তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় মুসলিম হয়েছেন।

গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আয়ুশ বলেন, "আমাকে কোনোভাবেই বাধ্য করা হয়নি বা আমার সাথে কোনো প্রতারণাও করা হয়নি। শৈশব থেকেই আমি ইসলাম সম্পর্কে জানতাম। আমার ভালো লেগেছে বলেই আমি এই পথ বেছে নিয়েছি। এখন আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।"

এই ধর্মান্তরের ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে তুমুল বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়, যখন আয়ুশের বাবা দেবরাজ মালিক (যিনি এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী চিকিৎসা ব্যবসায়ী) থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। দেবরাজ মালিকের অভিযোগ ছিল, চাঁদনী কোরেশী এবং তার বাবা ইসলাম কোরেশী তাদের পারিবারিক সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে চক্রান্ত করে আয়ুশকে ফাঁদে ফেলেছেন। জিম ট্রেইনার হিসেবে কর্মরত চাঁদনীর সাথে সম্পর্কের সূত্র ধরে পরবর্তীতে আয়ুশ তাকে বিয়ে (নিকাহ) করেন। বাবার দায়ের করা সেই মামলার প্রেক্ষিতে বর্তমানে চাঁদনী এবং তার বাবা জুডিশিয়াল রিমান্ডে রয়েছেন।

শামলির পুলিশ সুপার (এসপি) এনপি সিং জানিয়েছেন, ব্যবসায়ী দেবরাজ মালিকের তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে আয়ুশ সবার ছোট। পরিবারের দাবি, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আয়ুশ দাড়ি রাখতে শুরু করেন এবং ইসলামিক পোশাক (কুঁর্তা-পাজামা ও টুপি) পরাসহ পরিবারের সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। পুলিশ আরও জানায়, দক্ষিণ এশিয়ার সুপরিচিত প্রয়াত পাকিস্তানি ইসলামিক স্কলার ড. ইসরার আহমদের কোরআনের তাফসির ও লেকচারের ভিডিও দেখে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন আয়ুশ।

হঠাৎ উগ্রপন্থী হওয়া বা সম্পত্তির লোভের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে খণ্ডন করে আয়ুশ বলেন, "এটা কোনো এক রাতের বা আকস্মিক পরিবর্তনের বিষয় নয়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত উপলব্ধি থেকে আমি ধীরে ধীরে ইসলামের দিকে ধাবিত হয়েছি। কেউ আমাকে ড. ইসরার আহমদের ভিডিও দেখতে বাধ্য করেনি, আমার ওনার কথা ভালো লেগেছে তাই আমি ওনাকে অনুসরণ করেছি।"

পারিবারিক সম্পত্তির বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান, বাবার কোনো সম্পত্তির ওপর তার কোনো লোভ বা অধিকারের আকাঙ্ক্ষা নেই। তিনি ইতোমধ্যেই পরিবারকে জানিয়েছেন যেন এই সম্পত্তি তার মা এবং বোনদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়।

পারিবারিক এই টানাপোড়েন ও আইনি জটিলতার মধ্যেও দুই পরিবারের প্রতিই নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন আয়ুশ। তিনি বলেন, "ওরা সবাই আমার পরিবার এবং আমি উভয় পক্ষকেই ভালোবাসি। একটিকে ছেড়ে অন্যটির সাথে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।" তবে নিজের বাবার এমন আইনি পদক্ষেপের পেছনে কট্টরপন্থী ও ডানপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের চাপ থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ভারতে আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই ঘটনাটি বর্তমানে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: মুসলিম মিরর।

শীর্ষনিউজ