হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সাগরে বিধ্বস্ত হওয়ার পর চালকবিহীন স্পিডবোট ড্রোনের মাধ্যমে দুই পাইলট উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মত কোনো জলপথ উদ্ধার অভিযানে ড্রোন ব্যবহার করা হলো।
মঙ্গলবার ( ৯জুন) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সোমবারের ওই ঘটনার তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে ওমান উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় টহলরত একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টারে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার পর দুই মার্কিন পাইলটকে মার্কিন বাহিনী উদ্ধার করেছে। তবে কীভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি এবং শুরুতে চালকবিহীন নৌযান ব্যবহারের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়। হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই দুই সেনাসদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে দুজনই স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তবে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানান, উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত হয়েছিল একটি চালকবিহীন স্পিডবোড ড্রোন। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের অধীন বিশেষ ইউনিট টাস্ক ফোর্স ৫৯ এই ড্রোন পরিচালনা করে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে জলপথ উদ্ধার অভিযানে কোনো ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও টাস্ক ফোর্স ৫৯-এর ২০২৩ সালের একটি নথিতে বিভিন্ন ধরনের নৌ ড্রোনের উল্লেখ রয়েছে। তবে সোমবারের অভিযানে ঠিক কোন মডেলের ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে হেলিকপ্টার বিধ্বংসের ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পাইলটরা ভালো আছে। কেউ আহত হননি।
ঘটনাটি নিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে তারা বিদেশি সংবাদমাধ্যমের তথ্য উদ্ধৃত করা ছাড়া নতুন কোনো তথ্য দেয়নি। হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবর প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস।