Image description

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর দুই মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এ সময়জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় দাবি করে আসছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ‘শান্তিচুক্তি’ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

 

বিভিন্ন জনসভা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে ফোনালাপে অন্তত ৩৮ বার দাবি করেছেন, ‘ইরান চুক্তি করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। চুক্তি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।’ কিন্তু আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে এই চুক্তির কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

 

সবকিছুর শুরু হয়েছিল গত ২৩ মার্চ, যুদ্ধ শুরুর এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগে। ওই সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানের বাইরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘শান্তি আলোচনার প্রায় সব বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।’ তবে ট্রাম্পের এ দাবি ইরান তাৎক্ষণিকভাবে নাকোচ করে দেয় ইরান।

 

এরপর থেকে ট্রাম্পের মুখে একই বুলি বারবার শোনা যেতে থাকে। ২৫ ও ২৬ মার্চের দিকে তিনি দাবি করেন, ইরান চুক্তি করার জন্য ‘অনুনয়-বিনয়’ করছে। এমনকি ইরান এ চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

২৯ মার্চ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ‘আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তিনি চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন।’

 

গত ৭ এপ্রিল ট্রাম্প যখন দুই সপ্তাহের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, তখন তিনি বলেছিলেন চুক্তি চূড়ান্ত করতে মাত্র ১৪ দিন সময় লাগবে। কিন্তু সেই সময়সীমা পার হওয়ার পরও কোনো সমাধান আর আসেনি।

 

এরপর ১৫ এপ্রিল ফক্স বিজনেস নিউজককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘সব কিছু শেষের খুব কাছাকাছি।’ এমনকি ১৭ এপ্রিল তিনটি ভিন্ন অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করে বসেন, ‘ইরান সব শর্তে রাজি হয়ে গেছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই চুক্তি সই হবে।’ তবে সেই দুই-তিন দিন পেরিয়ে ২০ এপ্রিল ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখে বসেন, ‘সব কিছু খুব দ্রুত ঘটে যাবে।’ কিন্তু সেটিও বাস্তবে ঘটেনি।

 

এরপর আসে ৩০ এপ্রিলে ট্রাম্পের একই মন্তব্য। তিনি দাবি করেন, ‘ইরান চুক্তি করার জন্য এখনও মরিয়া’ হয়ে আছে।

 

মে মাসের শুরু থেকে সেই চিরচেনা দাবি ধরাবাহিক করেই যাচ্ছেন ট্রাম্প। গত ১ মে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে চলেছে।

 

এরপর কিছু সময়ের জন্য ট্রাম্প তার নিরর্থক দাবি করা থেকে কিছুদিনের জন্য বিরতিতে যান। একটা সময় গিয়ে আবারও ইরানে নতুন অভিযান ঘোষণা করেন তিনি। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধের দোহাই দিয়ে ১৮ মে তিনি ঘোষণা করেন, সামরিক হামলা ‘দুই বা তিন দিনের’ জন্য পিছিয়ে দিয়েছেন। এবং চুক্তির খুব কাছাকাছি তারা। গত ১৯ মে কংগ্রেসের এক পিকনিকে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে যাচ্ছি।’

 

২৩ মে ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তিটি মূলত চূড়ান্ত হয়ে গেছে। শিগগির ঘোষণা করা হবে।’ ২৮ মে তার পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারেও তিনি একই কথা পুনরাবৃত্তি করেন।

 

সর্বশেষ রোববার (৭ জুন) সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত চুক্তির খুব কাছে আছি, কিন্তু ইসরায়েল-ইরানের পাল্টাপাল্টি লড়াই একে ঝুঁকিতে ফেলছে। এটি একটি ভালো চুক্তি হবে। বর্তমানে যা ঘটছে, তার কারণে আমি চাই না এটি ভেস্তে যাক।’ অন্তত তৃতীয়বারের মতো ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে ‘চুক্তি আসন্ন’ বিষয়ে কথা বলেছেন।

 

পরদিন সোমবার (৮ জুন) দক্ষিণ ক্যারোলিনায় সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের পক্ষে আয়োজিত এক টেলিফোনভিত্তিক সমাবেশে ট্রাম্প আবারও তিনি দাবি করেন, ‘আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ‘বিজয়’ আসবে কারণ ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের দেওয়া সব দাবি মেনে নিয়েছে।’

 

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন আলোচনা করছি। ইরানও খুব ভালো একটি চুক্তি করতে চায়।’

 

সর্বশেষ মঙ্গলবার (৯ জুন) নিউইয়র্কে এনবিএ ফাইনালস খেলা শেষে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হওয়া সম্ভবনা রয়েছে। আমার মনে হয় আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে।’ এসময় তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পও তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

 

সূত্র: সিএনএন