ইরানের আধাসামরিক ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) প্রধান ‘নিহত হয়েছেন’ বলে ব্যাপক গুঞ্জন উঠেছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ বাহিদির নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে বেশকিছু গণমাধ্যম। তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে মনে করা হয় বাহিদিকে।
বাহিদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য আলোচনায় ইরানের কঠোর অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে মনে করা হয়।
ধারণা করা হয়, তিনি এমন একটি ছোট প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সদস্য, যারা সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ইসরায়েলি হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাহিদিকে ঘিরে আরও বেড়েছে জল্পনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অযাচাইকৃত তথ্য অনুযায়ী, তেহরানে সাম্প্রতিক সময়ে এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বাহিদি।
তবে এখন পর্যন্ত ইরানি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি। এ ছাড়া স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তাও প্রকাশ্যে এ দাবি নিশ্চিত করেননি।
এর আগেও বাহিদির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল, যা পরে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।
এই নতুন দাবিগুলো মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি অ্যাকাউন্ট এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী ভাষ্যকারদের কাছ থেকে এসেছে।
আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত বাহিদি।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার বলেছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ বাহিদি এবং আইআরজিসির ভেতরে তার ঘনিষ্ঠ বলয় বর্তমানে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহিদির গোষ্ঠী বেসামরিক কর্মকর্তাদের প্রান্তিক করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার বিরোধিতায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলবিরোধী কড়া বক্তব্য ও হুমকির সঙ্গেও বাহিদির নাম জড়িয়েছে। সমালোচকদের মতে, এসব বক্তব্য আইআরজিসির ইসরায়েলবিরোধী মুখোমুখি অবস্থানেরই প্রতিফলন।
সামরিক বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি এসব খবর সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা হবে।
আইআরজিসি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সামরিক, গোয়েন্দা ও আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের তদারকি করে এই বাহিনী।
এপ্রিল মাসে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আইআরজিসি গোয়েন্দাপ্রধান মাজিদ খাদেমির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিল। একই সময় আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার মৃত্যুও নিশ্চিত করা হয়।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি তীব্র অভিযানের সময় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রতিরক্ষা ও সামরিক নেতৃত্বের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মৃত্যুর কথাও স্বীকার করেছে ইরান।
এসব ক্ষয়ক্ষতি ইরানের সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চলমান ইসরায়েলি ও মিত্রদের অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর মতো দাবি সরকার বা স্বাধীন সংস্থার নিশ্চিত করার আগেই অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।