Image description
হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে এবারের পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তারা আজ থেকে মহান আল্লাহর ডাকে শুরু করবেন হজব্রত। তবে তাদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে অসহনীয় গরম, তাপমাত্রা। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) আগেই পূর্বাভাসে বলেছে-মক্কা ও আশপাশের পবিত্র এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

অবশ্য যারা হজ করতে যান, তাদের কাছে এইসব তাপমাত্রা, প্রতিকূলতা কোনো বিষয় নয়। তবু তাপমাত্রা ভয়াবহভাবে বাড়তে থাকায় এবারের হজ মৌসুমকে সামনে রেখে হজযাত্রীদের জন্য হিট প্রোটেকশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ।

সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাজীদের প্রতি নিয়মিত ছাতা ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, হজের বিভিন্ন রীতির সময় রোদ, হিটস্ট্রোক, অতিরিক্ত গরমে অসুস্থতা এবং পানিশূন্যতা থেকে বাঁচতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ছাতা শুধু ছায়াই দেয় না, বরং আশপাশের তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমাতে পারে এবং শারীরিক চাপও কমায়। 

জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, মদিনা, মক্কা এবং পবিত্র স্থানগুলোর সংযোগকারী রুটগুলোতে দিনভর খুবই গরম আবহাওয়া বিরাজ করবে। ২৫শে মে হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর আগে ব্যাপক জনসমাগম শুরু হয়েছে। তাপমাত্রা মক্কায় ৪৭ ডিগ্রি এবং মদিনায় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আর্দ্রতা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে এবং খোলা এলাকায় ধুলিঝড়ের আশঙ্কাও রয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ হজযাত্রী ও যাত্রীদের যানবাহন যাত্রার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করা, নিরাপত্তা নির্দেশনা মানা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে।

এ বছর প্রায় ১৬ লাখ (১.৬ মিলিয়ন) হজযাত্রী মক্কায় সমবেত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই হিট ম্যানেজমেন্ট ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাদশাহ’র পক্ষ থেকে হজ, উমরাহ ও ভিজিট প্রোগ্রামের আওতায় ১০৪টি দেশের ২৫০০ হজযাত্রীর জন্য আবাসন ও চিকিৎসা প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

এসপিএ জানায়, মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোতে বিশেষায়িত চিকিৎসা ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে আধুনিক ডায়াগনস্টিক ও জরুরি চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে। এই ক্লিনিকগুলোতে দক্ষ চিকিৎসকরা ২৪ ঘণ্টা সেবা দিচ্ছেন, যাতে হজযাত্রীরা নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন।

গত কয়েক বছরে সৌদি কর্তৃপক্ষ হজ মৌসুমে তীব্র গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিট ম্যানেজমেন্ট, জরুরি সাড়া ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা প্রস্তুতি আরও বাড়িয়েছে।