Image description

কান চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ডায়মন্ড’ নিয়ে হাজির হয়েছেন হলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা ও পরিচালক অ্যান্ডি গার্সিয়া। তবে উৎসবের আলো ঝলমলে আবহেও তার জন্মভূমি কিউবার রাজনৈতিক সংকট ও নিপীড়নের চিত্র উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। 

 

৭০ বছর বয়সি এই তারকা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কিউবার সাধারণ মানুষ বর্তমান একনায়কতান্ত্রিক শাসন থেকে মুক্তি পেতে উন্মুখ হয়ে আছে। 

সামরিক হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে গার্সিয়া বলেন, ‘কেউ যুদ্ধ চায় না, কিন্তু একটি দেশের মানুষের ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা চরম নিপীড়ন ও কষ্ট কোনো সমাধান হতে পারে না। আপনি যদি কিউবার সরকারকে বাদ দিয়ে সেখানকার সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞেস করেন যে তারা কিউবাকে বাঁচাতে আমেরিকা, ফ্রান্স বা অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ চায় কিনা—তবে ৯০ শতাংশ মানুষ একবাক্যে বলবে, দয়া করে আসুন, আমাদের দেশ আক্রমণ করুন এবং এই শাসকদের হাত থেকে আমাদের মুক্ত করুন।’ 

বর্তমানে কিউবা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর তেল অবরোধ আরোপ করার পর এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কিউবা সরকারকে জোরপূর্বক উৎখাত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বারবার। 

 

 

 

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিউবার তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মার্কিন হস্তক্ষেপের পক্ষে মত দিয়েছেন। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও এই দ্বীপরাষ্ট্রের ভাগ্য পরিবর্তনের একমাত্র পথ হিসেবেই তারা এটিকে দেখছেন। 

তবে প্রবীণ কিউবানরা এই সামরিক হুমকিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ১৯৬২ সালের পরমাণু সংকটের মতো চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি পেরিয়ে আসা প্রবীণদের মতে, বিগত ছয় দশক ধরে চলা এই দুই দেশের স্নায়ুযুদ্ধ কখনোই সরাসরি সংঘাতের রূপ নেবে না। 

শৈশবেই কিউবা ছেড়ে আসা অ্যান্ডি গার্সিয়ার জীবন কেটেছে লস অ্যাঞ্জেলেসে। তার পরিচালিত তৃতীয় চলচ্চিত্র ‘ডায়মন্ড’ মূলত তার এই পালক-শহরের প্রতি এক ধরনের ‘প্রেমপত্র’। ২০ বছর আগে নিজের মেয়ের একটি হোমওয়ার্ক প্রজেক্ট থেকে এই সিনেমার আইডিয়া মাথায় এসেছিল গার্সিয়ার। 

সমসাময়িক লস অ্যাঞ্জেলেসের পটভূমিতে তৈরি এই সিনেমায় মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন গার্সিয়া নিজেই। ‘জো ডায়মন্ড’ নামের এক মদ্যপ এবং অতীত আঁকড়ে থাকা প্রাইভেট ডিটেকটিভের এক বিলিয়নিয়ারের রহস্যময় মৃত্যুর তদন্তকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সিনেমার গল্প। 

সিনেমাটিতে হলিউডের একঝাঁক তারকা অভিনয় করেছেন। বারম্যান এবং করোনালের (লাশ পরীক্ষক) চরিত্রে অভিনয় করেছেন গার্সিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধু বিল মারে এবং ডাস্টিন হফম্যান। এছাড়া অন্য একটি ডিটেকটিভ চরিত্রে রয়েছেন ‘দ্য হোয়েল’ খ্যাত তারকা ব্রেন্ডন ফ্রেজার। নারী প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোজমেরি ডিউইট এবং ভিকি ক্রিপস। 

সূত্র: জাপান টুডে