Image description

ভারতে ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (তেলাপোকা জনতা পার্টি) ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এমনকি ভারতের বাইরে থেকেও আর ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করা যাচ্ছে না।

কেবল ওয়েবসাইটই নয়, সংগঠনটির এক্স অ্যাকাউন্টও ভারতে অচল হয়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ অনুসারী থাকা ওই হ্যান্ডেলে পাতায় ঢুকলে দেখা যাচ্ছে, ‘আইনি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে’ সেটি ভারতে আটকে দেওয়া হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টি চালুর কয়েক দিনের মাথায় তাদের ওইয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেওয়া হলো।

সম্প্রতি ভারতের প্রধান বিচারপতি দেশটির বেকার তরুণদের সঙ্গে তেলাপোকার তুলনা করলে তাকে ব্যঙ্গ করে এই সংগঠনটি গঠন করেন অভিজিৎ দীপকে নামের এক তরুণ। মজার ছলে গঠিত এই সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে  অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তাদের অনুসারীর সংখ্যা এরইমধ্যে দুই কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে।

অবশ্য দেশটির প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যায় দাবি করেন, তিনি ভারতের বেকার তরুণ সমাজকে নয়, বরং ‘ভুয়া ও জাল ডিগ্রিধারীদের’ তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করে ওই মন্তব্য করেছিলেন।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ওয়েবসাইট বন্ধের পর অভিযোগ করে বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের ‘আইকনিক ওয়েবসাইট’ নামিয়ে দিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তেলাপোকাকে এত ভয় কেন?’

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সংগঠনটি নতুন একটি ‘ঠিকানা’ (ওয়েবসাইট) তৈরির কাজ করছে। তিনি লেখেন, ‘তেলাপোকা কখনো মরে না।’

অভিজিৎ দীপকে আরও দাবি করেন, তার ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং সংগঠনের ইনস্টাগ্রাম পাতাও হ্যাক করা হয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতার পার্টি’ নামটি মূলত ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’ (বিজেপি) নামকে ব্যঙ্গ করে রাখা হয়েছে। সংগঠনটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অনুসারীর সংখ্যা দুই কোটি ২০ লাখের বেশি, যা ভারতীয় জনতা পার্টির অনুসারীর সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি।

সংগঠনটি নিজেদের ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। তাদের রসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক সদস্যপদ নেওয়ার শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- সারাক্ষণ অনলাইনে থাকা এবং ‘পেশাদারের মতো অভিযোগ করার সক্ষমতা’।

তারা নিজেদের প্রচার করতে স্যুট পরা মানব দেহে তেলাপোকার মাথা বসানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি ‘আমিও তেলাপোকা’ সমর্থন আদায়ে ‘ম্যায় ভি ককরোচ’ হ্যাশট্যাগও ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের কেউ কেউ তেলাপোকার পোশাক পরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছেন।

অভিজিৎ দিপকে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সংগঠনটির জনপ্রিয়তা ভারতের তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা অসন্তোষের প্রতিফলন। বিশেষ করে উচ্চ বেকারত্ব এবং মূলধারার রাজনীতিতে নিজেদের উপেক্ষিত মনে করার প্রবণতাই এর পেছনে কাজ করছে।’