কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শেখ হাসিনা হলে সিট বরাদ্দ নিয়ে হল প্রভোস্টকে শাসানোর অভিযোগ উঠেছে হল ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী ফাইজা মাহজাবিনের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় হলের প্রাধ্যক্ষর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হয়। তবে প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া রুমে প্রবেশ করার অভিযোগ করেছেন ফাইজা।
জানা যায়, প্রেয়সী সানা নামের আইসিটি বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে হলের ২১৬ নম্বর রুমে সিট বরাদ্দ দেয় হল প্রশাসন। কিন্তু রায়হানা আনজুম নামের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে আগে থেকে সেখানে সিট বরাদ্দ দেয় ছাত্রলীগ সভাপতি ফাইজা। এদিন প্রেয়সী ২১৬ নম্বর রুমের সিটে উঠতে গেলে তার জন্য বরাদ্দকৃত সিটে আনজুমাকে দেখতে পেয়ে হল প্রভোস্ট মো. সাহেদুর রহমানকে বিষয়টি অবগত করেন। এ বিষয়ে জানতে আনজুমাকে ডাকে প্রভোস্ট। এ সিটে তাকে কে তুলছে জানতে চাইলে সে হল সভাপতি ফাইজার নাম বলে। পরে প্রভোস্ট এ বিষয়ে ফাইজার কাছে জানতে চাইলে হল প্রভোস্টকে শাসান ফাইজা। এসময় উভয়ই বাগবিতাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট সাহেদুর রহমান বলেন, হল প্রশাসন প্রেয়সী সানাকে ২১৬ নম্বর রুমের ওই সিটে বরাদ্দ দিয়েছে। সানা সিটে উঠতে গিয়ে ওই রুমে আনজুমকে দেখে আমার কাছে অভিযোগ করলে আমি সিট পরিবর্তন করার বিষয়ে আনজুমের কাছে জানতে চাই। তখন ফাইজা এসে আমাকে বলেন- ‘আমি হলের সভাপতি। আমি যাকে যেখানে সিট দেব, সে সেখানে থাকবে।’
তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ফাইজা মাহজাবিন বলেন, স্যারের সাথে আমার তর্ক হয়েছে মাত্র। বেয়াদবি হওয়ার মতো কিছু হয়নি। আমার ওপর ওনার পূর্ব ক্ষোভ থাকায় বিষয়টিকে অতিরঞ্জন করা হচ্ছে।
পূর্বে ক্ষোভের কারণে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হল প্রভোস্ট প্রায়সময়ই হুটহাট আমার রুমে ঢুকে যান। মেয়েদের রুমে ঢুকে তাঁদের লকার চেক করেন। এ বিষয়ে ওনাকে বেশ কয়েকবার বলায় তিনি আমার ওপর ক্ষেপে আছেন। সেই পুরনো ক্ষোভের কারণেই বিষয়টিকে এখন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে।
তবে সাহেদুর রহমান বলছেন, আমি কোনো রুমে ঢুকতে চাইলে আগে থেকেই জানিয়ে রাখি। বিভিন্ন রুমের নষ্ট লকার ঠিক করতে দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো ঠিক করা হয়েছে কি না তা চেক করেছি।
শিক্ষার্থী হয়ে আপনি অন্য কাউকে সিট দিতে পারেন কি না এমন প্রশ্নের ফাইজা বলেন, ওই সিটটি প্রায় আট মাস খালি ছিল। এই ফ্লোরে সব সিনিয়ররা থাকায় আনজুমকেও এখানে আসতে বলি। প্রশাসন সেখানে অন্য কাউকে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে আগে থেকে আমি কিছু জানতাম না। আমি স্যারের কাছে আনজুমকে সেখানে থাকতে দেওয়ার অনুরোধ করেছি মাত্র। আমার বিরুদ্ধে হলের ফি না দেওয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ আমি ফি দিয়েই হলে থাকছি।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, তাকে (ফাইজা মেহজাবিন) দায়িত্ব দিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে সাধারণ মেয়েদের সমস্যা সমাধান করার জন্য। সে যদি ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে অন্যায় কিছু করে থাকে, আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। তবে ছাত্রলীগের হল ইউনিটের সভাপতি হিসেবে সে কোনো শিক্ষার্থীকে সিটে উঠাতেই পারে।
এদিকে আনজুমা তার এক ফেসবুক কমেন্টে প্রভোস্টের হাতে দুর্ব্যহারের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। নির্ধারিত সিটে না গেলে হল থেকে বের করে দেয়ারও হুমকি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে হলে নিজের ইচ্ছায় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত সিট পরিবর্তন করেন ফাইজা। এছাড়া ছাত্রলীগের মিছিলে না যাওয়ায় হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকিসহ নিজ বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করতে বাধ্য করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সভাপতির একক আধিপত্যে মুখ খুলতে পারছেনা সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২০ অক্টোবর কাজী ফাইজা মাহজাবিনকে সভাপতি এবং জেবুননেসা বিনতে জামান সিসিলিকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। সাধারণ সম্পাদক চাকরিতে জয়েন করায়, হলে একক আধিপত্য তৈরি করে সভাপতি ফাইজা।