Image description

গাইবান্ধায় ফেসবুকে প্রেমের নাটক সাজিয়ে প্রতারণার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীসহ চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় চক্রটির কবল থেকে ভুক্তভোগী ২ যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার কামাল হোসেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ঢাকার ধামরাই উপজেলার মুরারচর গ্রামের মৃত আমিরুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০) ও তার স্ত্রী মেহনাজ আক্তার সাথী (২৫), গাইবান্ধা শহরের ডেভিট কোম্পানীপাড়ার রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে ফাহিম মিয়া (২২), গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তরফমন গ্রামের ময়নুল শেখের ছেলে রুবেল শেখ (২৫) ও বামনকুড়ি (কইপাড়া) গ্রামের জহুরুল আকন্দের ছেলে জুয়েল আকন্দ (২৬)।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার কামাল হোসেন বলেন, 'গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে আপেল মাহমুদের সঙ্গে ১৫ দিন আগে রুবেল শেখ ও জুয়েল আকন্দের মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। সেই সুবাদে আপেলকে গত ৩ মার্চ সন্ধ্যার দিকে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে ডেকে নিয়ে আসে। একপর্যায়ে গোবিন্দগঞ্জ চারমাথা মোড়ের নূর জাহান আবাসিক হোটেলে ২০৯ নং রুমে আটক করে রাখে। সেখানে প্রতারণামূলকভাবে তার নগ্ন ছবি ও অশ্লীল ভিডিও তৈরির হুমকি দিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য আপেলকে দিয়ে তার পরিবারের লোকজনদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। এই টাকা দিতে দেরি হওয়ায় আপেলকে মারপিট করে নগদ ১৮ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এসময় আপেল মাহমুদ তার পরিবারকে জানালে তার গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করে। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে আপেল মাহমুদকে নুরজাহান আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার এবং প্রতারক রুবেল শেখ ও জুয়েল আকন্দকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

অপরদিকে, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ কুঠি গ্রামের এনছার আলীর ছেলে জহুরুল ইসলামের সঙ্গে ইমুর মাধ্যমে প্রায় ১০ দিন আগে মেহনাজ আক্তার সাথী নামে এক নারীর পরিচয় হয়। এরপর মেনহাজ আক্তার সাথী জহুরুলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে গত ৩ মার্চ তাকে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার ভাড়া বাসায় ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা সাথীর স্বামী আরিফ ও তার সহযোগী ফাহিম জহুরুলকে জিম্মি করে ঘরের ভেতর আটকে রেখে নগ্ন ভিডিও ধারণ ও মারপিট করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা নগদ দেড় হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় প্রতারক চক্রটি। এ সময় মোবাইল ফোনে জহুরুল তার পরিবারকে জানালে স্বজনরা গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে জঙ্গলমারা এলাকার ডায়াবেটিস হাসপাতালের পেছনে প্রতারকদের ভাড়া বাসা থেকে জহুরুল ইসলামকে উদ্ধার করাসহ প্রতারকদের গ্রেফতার করা হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার কামাল হোসেন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শেষে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।