Image description
 
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে
বিএনপি -জামায়াতের হার নিয়ে অনেকে জানতে চাচ্ছেন।
প্রথম কথা হচ্ছে দেশের সকল আওয়ামী ধর্মের অনুসারীরা দেশ ত্যাগও করে নাই, জেলেও যায় নাই। তারা স্বমহিমায় আছে! খুব অল্প একটা অংশ দেশ থেকে পালিয়েছে তবে তারা সক্রিয় আছে বিভিন্ন ভাবে। আর আরেকটা ছোট্ট অংশ গা ঢাকা দিয়েছে। সুযোগ পেলেই তারাও ফণা তোলতে দেরি করবে না। তাদেরকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনারও কোন প্রক্রিয়া দৃশ্যমান নয়। যতো সময় যাচ্ছে বিষয়গুলো নরমালাইজ হওয়ার দিকে যাচ্ছে।
 
দ্বিতীয় এবং স্বতসিদ্ধ বিষয় হচ্ছে আওয়ামী লীগকে আমি / আমরা অনেকেই একটা নব্য ধর্ম হিসেবে আখ্যা দিয়ে এসেছি। যেই ধর্মের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য অসাধারণত্ব! রয়েছে। এই ধর্মের প্রথম নবী শেমু এবং দ্বিতীয় ও বর্তমান নবী তার সুযোগ্য কন্যা। তিনি বর্তমানে তীর্থ যাত্রায় আছেন এবং ভালো ভাবেই ফাংশন করছেন। লুটতরাজ হওয়া কোটি কোটি ডলার চাতুরতার সাথে দেশের ভিতরে এবং বাহিরে বিনিয়োগ করছেন চট করে ঢুকে গদি ফিরে পাওয়ার জন্য।
 
তৃতীয় সত্য বিষয় হচ্ছে, এই ধর্মের লোকজন যেহেতু নবীকে মনে প্রাণে মেনে চলে সুতরাং তারা মনে করে তিনি যাই করেন তাই রাইট। তিনি মাসুম তথা সকল ভুলের ঊর্ধ্বে। তিনি ভুল করতে পারেন এটাও তারা মানতে নারাজ। বড়জোর বলা হয় 'তাকে ভুল বুঝানো হয়েছে' এটুকুই। সুতরাং তার অর্ডারে জুলাই বিপ্লব সহ বিগত ১৫ বছরে যতো রকমের খুন-গুম, নির্যাতন হয়েছে এগুলো ছিলো তাদের জি হা দের অংশ। ঈমানদার আওয়ামী ধর্মের লোকজন এটাকে নিয়ে গর্ব করে। মুসলমানরা যেভাবে বদরে ৭০ জনকে ক ত ল করেছে তেমন আর কি।
 
আওয়ামী উন্নয়ন আর ধর্মীয় বয়ানকে জারি রাখতে তা অত্যন্ত জরুরি হিসেবেই বিবেচ্য ছিলো এবং এখনো আছে তাদের কাছে। সুতরাং তারা এ নিয়ে অনুতপ্ততা তো দূরে থাক লজ্জিতও হয়না।
এবার আসি আইনজীবী অঙ্গনের বেলায়।
 
উপরের বিষয়গুলোর সাথে আরো বিবেচ্য যে, আইনজীবীরা সবাই রাজনৈতিক সচেতন বা রাজনীতির সাথে কম বেশি সবাই জড়িত বলা যায়। এখানে সাধারণ ভোটার বলতে কিছু নেই।
তাই সবাই যার যার দল বিবেচনায় ভোট দেবেন এটাই স্বাভাবিক।
 
দ্বিতীয় বিষয় হলো - আওয়ামী আইনজীবী যারা আছেন তারা সবাই কোর্ট অঙ্গনে আগের মতোই আছেন। প্র্যাক্টিস করছেন যার যার মতো। সুতরাং আওয়ামী লীগের ভোট যা ছিলো তাই আছে কোন অংশে কমেনি।
 
তৃতীয় বিষয় হলো- কোর্ট অঙ্গনে জুলাই বিপ্লবের ছোয়া তেমন একটা লাগে নাই বললে চলে। যেখানটাতে যে রকম উপ্রি দেওয়া লাগতো সবই আগের মতোই দিতে হয়। টেবিলে- টেবিলে, ফাইল প্রতি যা দেওয়ার তা দিতেই হয়। মামলার জটও খুব একটা কমেছে বলা যায়না।
এটা ঠিক যে সিলেট বারে রাজনৈতিক প্যানেলে নির্বাচন হয় না। যেমনটা ঢাকা বা চট্টগ্রামে হয়। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই ইলেকশন করেন।
 
যে দলের যিনি নির্বাচিত হোন সে দলের বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
রাজনৈতিক বড় দুটি দল তথা বিএনপি এবং জামায়াতের জাতীয় রাজনীতিতে ঐকতান নেই।
 
যে যার মতো চলছে। এর মধ্যে আবার প্যানেল ছাড়া নির্বাচন। সব মিলিয়ে দুই দলের মধ্যে আভ্যন্তরীণ পর্যায়েও কোন ধরনের বুঝাপড়া ছিলো না।
এছাড়াও বিএনপির ক্যান্ডিডেট হারার পিছনে মোটাদাগে কিছু কারণ ছিলো।
 
১. বিএনপির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কিছুদিন আগে তার দলীয় ফোরামকে বাইপাস করে ঢাকা থেকে তদবির করে পিপিশীপ নিয়ে আসেন। দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার আগেই বিএনপির একাংশ আইনজীবী তাকে পিপি থেকে অপসারণ করান ঢাকায় যোগাযোগ করে। তার মানে তিনি বিএনপিরই সব ভোট পাবেন না এটা জানা বিষয় ছিলো। তারপরও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যেহেতু হয়েছেন এই দূরত্ব কমানোর কোন উদ্যোগও পরিলক্ষিত হয়নি।
ফলস্বরূপ যা হবার তাই হয়েছে। আর বিকল্প অন্য কোন প্রার্থীও ছিলেন না।
 
২. এবার জিএস প্রার্থী ছিলেন অনেকে। খুব কাছাকাছি ব্যবধান হবে সবার এটা আগে থেকেই বুঝা যাচ্ছিলো। মাত্র ৩০০ ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ভোট ভাগাভাগি বেশি হওয়ায়। জামায়াতের একজন জিএস প্রার্থী ছিলেন। বিএনপি এবং জামায়াতের মাঝে একটা লিয়াজো হলে দুইটাতেই বিএনপি জামায়াতের জিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যেতো। যেহেতু জামায়াতের একজন মাত্র কেন্ডিডেট ছিলেন অন্যদিকে বিএনপি ঘরানার কয়েকজন ছিলেন।
তার মানে বিএনপি-জামায়াত সিলেট বারের নির্বাচনে কোন প্ল্যান নেয়নি উলটো করে বললে বলতে হয় তারা হারার প্ল্যানই নিয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে যা হবার তাই হয়েছে। এ নিয়ে দুই দলের অভ্যন্তরে তেমন কোন মাথা ব্যথাও পরিলক্ষিত হয়নি।
বিপত্তিটা হয়েছে মিডিয়ার বাড়াবাড়ি নিয়ে। মিডিয়া যেভাবে আওয়ামী লীগ প্রার্থিদের বিজয় বলে প্রচার করছে এটা মিডিয়ার চাতুরী। এটা কি সেভাবে দলীয়ভাবে ইলেকশন হয়েছে?
 
তবুও এখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার বিষয় আছে।
সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো এখনো বিএনপি-জামায়াতের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি।
ছবি: নির্বাচনের দিন রাত ১১ টায় হলভর্তি আইনজীবীদের উপস্থিতিতে সাবেক প্রেসিডেন্টরা ভোটের হিসেব ঘোষণা দিচ্ছেন অত্যন্ত কোলাহল পূর্ণ পরিবেশে।

এডভোকেট রফিকুল ইসলাম লদি ( Adv Rafiqul Hasan Lodi)