পুলিশের নানা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই থার্টিফার্স্ট নাইটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফানুস ওড়ানো ও আতশবাজি করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন অগ্নিকাণ্ডসহ ঘটেছে নানা দুর্ঘটনা। এমনকি সদ্য উদ্বোধন হওয়া মেট্রোরেলের বিদ্যুতের লাইন ও খুঁটিতে গিয়ে আটকে যায় ফানুস। সারা দেশের এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্তত ৩৬৫টি অভিযোগ এসেছে পুলিশের জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে।
যার মধ্যে শুধু রাজধানী থেকে অভিযোগ এসেছে ১৬০টি। এসব দুর্ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- এখন সেই প্রশ্ন জনমনে। মেট্রোরেলসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেট্রোরেলের লাইনে ফানুস পড়ার ঘটনায় তারা উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এলাকার সংশ্লিষ্ট তিনটি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ভবিষ্যতে এসব ঘটনায় আরও সতর্ক থাকার কথা বলেছেন থানার কর্মকর্তারা।
অভিযোগ রয়েছে, ফানুস থেকে অগ্নিকাণ্ড এবং আতশবাজির শব্দে অসুস্থ রোগী ও শিশুদের কষ্ট হলেও অভিযোগ করে স্থায়ী কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। এ কারণে প্রতি বছর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চলছেই। গত বছর ফানুস থেকে অগ্নিকাণ্ডের ফলে জানমালের ক্ষতি হয়েছিল।
গত শনিবার ডিএমপির কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে ফানুস ওড়ানো ও আতশবাজি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। অথচ দেখা গেছে, শনিবার রাজধানীজুড়ে আতশবাজি ফোটাতে ও ফানুস ওড়ানোর ধুম পড়ে যায়।
এদিকে মেট্রোরেলসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মেট্রোরেলের বিদ্যুতের লাইন ও খুঁটিতে ফানুস আটকে যাওয়ায় বছরের প্রথম দিন যথাসময়ে রেল চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে এসব ফানুস নামিয়ে আনার পর রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ফানুস থেকে আগুনের চারটি ঘটনায় তারা কল পেয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মানিকদি এলাকায় একটি বাসাবাড়িতে আগুন লাগায় ফায়ার সার্ভিস গিয়ে নির্বাপণ করেছে। বাকিগুলোতে ফায়ার সার্ভিস যাওয়ার আগেই নিজেরা নিভিয়ে ফেলে।
গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ উদ্বোধন হলো আরও একটি মেগা প্রকল্প মেট্রোরেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করার পর তিনিই প্রথম যাত্রী হন। মেট্রোরেল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সাধারণ জনগণকে প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশ নতুন রূপ পাবে। পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল, মেট্রোরেল প্রকল্পসহ বড় বড় প্রকল্প বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জীবনযাপনের মানকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
রাজধানীর বুকে মেট্রোরেল চালুর পরপরই এর নিরাপত্তা বিধান আপাতত ডিএমপি পালন করছে। জানা গেছে, মেট্রোরেলের জন্যই তৈরি হচ্ছে আলাদা পুলিশ ইউনিট, যারা এমআরটি পুলিশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
আমরা মনে করি, মেট্রোরেলের নিরাপত্তাজনিত কাজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা গ্রহণ করবে। মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক তারে ফানুস আটকে যাওয়ার ঘটনায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জনবহুল এলাকায় ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে সবাইকে আরও সতর্ক হতে হবে। মেট্রোরেলের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকা উচিত। তাই মেট্রোরেলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টরা আরও তৎপর ও সতর্ক হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।