Image description

 

 


আর মাত্র তিন দিন। এরপর আসছে নতুন ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা। আগামী ১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট পেশ করবেন।

বাজেট নিয়ে সব শ্রেণির মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তবে বেশিরভাগ মানুষের দৃষ্টি থাকবে কোন জিনিসের দাম বাড়বে, আর কোন জিনিসের দাম কমবে। বাজেটের আকার যত বড় হোক না কেন, সবার সন্তুষ্টির বিষয়টিই বড় হয়ে দেখা দেবে। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে একেবারে দরিদ্র মানুষের জন্য বাজেটে কী থাকছে সেই প্রশ্ন ঘুরছে সবার মনে। তবে বাজেটে সরকারের সামনে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ ঘুরে-ফিরে আসছে।


আগামী বাজেটে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। পাশাপাশি ডলার সংকট নিরসন করা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা। বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করা। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আগামী বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখার অদম্য প্রচেষ্টা থাকবে। আর সেই পথটি হচ্ছে, বেশ কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক হার কমানো।

ডলার সংকট কাটানোর জন্য বিলাস পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে লাগাম টেনে ধরা হবে। তবে শিল্প কল-কারখানার কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বেশ কিছু ছাড় থাকবে। দেশের শিল্পকে সুরক্ষার জন্য শুল্ক হার কমানোর দিকে নজর থাকবে।

আগামী বাজেটে রাজস্ব বাড়ানোর তাগিদ রয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফের)। যে কারণে আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে নানা উদ্যোগ থাকবে নতুন বাজেটে। ব্যক্তি খাতে করমুক্ত আয়ের সীমা খুব বেশি বাড়ছে না। বিদ্যমান সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে ৩ লাখ ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যাদের টিআইএন রয়েছে তাদের আয় না থাকলেও ২ হাজার টাকা আয়কর দিতে হবে। আয়কর জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট একটি তারিখ রয়েছে। আর তা হচ্ছে ৩০ নভেম্বর। এই নির্ধারিত তারিখের মধ্যে জমা না দিলে জরিমানা দিতে হবে। এই জরিমানার পরিমাণ বিদ্যমান জরিমানার চেয়ে বাড়তে পারে।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ড করের জাল বাড়ানোর পদক্ষেপ নেবে আগামী বাজেটে। টিআইএনধারী ছাড়াও কর আদায়ের জন্য কর এজেন্টের মাধ্যমে জাল বিস্তৃত করা হবে। ইতিমধ্যে গতকাল কর এজেন্ট নিয়োগের জন্য একটি বিধিমালা জারি করেছে। বিধিমালা অনুযায়ী করযোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসব এজেন্ট কর আদায় করতে পারবেন। তারা অবশ্য সরকারের কোষাগারে জমা হওয়া কর থেকে শূন্য দশমিক ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কমিশন পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রাজস্ব বাড়ানোর জন্য আগামী বাজেটে আরও কিছু নতুন উদ্যোগ থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে যাদের একাধিক কার বা গাড়ি থাকবে তাদের কাছ থেকে কার্বন কর আদায় করা হবে। পাশাপাশি যারা সম্পদশালী তাদের কাছ থেকে সারচার্জ বেশি করে নেওয়া হবে। যারা বিদেশ থেকে স্বর্ণ আনবেন তাদের বেশি কর দিতে হবে। বিদ্যমান করের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। করের আওতা যেমন বাড়তে পারে, তেমনই বাড়তে পারে ভ্যাটের আওতাও।

আগামী বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকছে ৫ লাখ কোটি টাকা। এরপরও বাজেটে ঘাটতি থেকে যাবে। ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৬১ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। তা হলে সরকার কোথা থেকে এই ঘাটতি পূরণ করবে?

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে, প্রচলিত নিয়মে বেশ কয়েকটি পন্থায় সরকার ঘাটতি পূরণ করবে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ব্যাংক ব্যবস্থা। নতুন বাজেটের জন্য ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ১ লাখ ২৫ থেকে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। আরও একটি পন্থা হচ্ছে, সঞ্চয়পত্র। এই খাত থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ পাওয়া যেতে পারে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা।


বাজেট নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগ্রহের কমতি নেই। বিশেষ করে বেতন বাড়ানোর গুঞ্জন এখন প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয় থেকে শুরু করে একেবারে মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা থাকবে আগামী বাজেটে। তবে বাজেটে কোনো ঘোষণা না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। ইনক্রিমেন্টের বিষয়ে বাজেটে ঘোষণা না দেওয়া হলেও সবার জন্য পেনশনের বিষয়ে পরিকল্পনার কথা বলা হতে পারে। শুরু কোথা থেকে হবে তার একটি আভাস অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় দিতে পারেন।

সরকারের খরচের মধ্যে এবার আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে ভর্তুকি। আগামী অর্থবছরের জন্য এই খাতে বরাদ্দ থাকতে পারে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। আর সরকারের সুদবাবদ ব্যয় বরাদ্দ থাকতে পারে ১ লাখ ২ হাজার কোটি টাকা। সরকারের নজর থাকবে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর দিকে। এ খাতে আগামী বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে এই খাতের উপকারভোগীর ভাতা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

আগামী ১ জুন বর্তমান সরকারের যে ২৩তম বাজেট ঘোষণা হবে, তার আকার হবে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯৯১ কোটি টাকার। আর এটি হবে বাংলাদেশের ৫২তম বাজেট। অর্থমন্ত্রীর বাজেটের জন্য একটি নতুন ব্রিফকেস কেনা হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী বাজেটের শিরোনাম হবে ‘উন্নয়নের দীর্ঘ অগ্রযাত্রা পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ অভিমুখে’।